২০২০ সালটি যেন শুধু হা’রানোরই একটি বছর। অন্যান্য যেকোন বছরের চেয়ে এই বছরটিতে মানুষ বেশি প্রিয়জন গুণীজন হা’রিয়েছে।

বলিউডেও এসেছে মৃ’ত্যুর ছায়া। ইরফান খান থেকে শুরু করে ঋষি কাপুর কিংবা সুশান্ত রাজপুতের অভিনেতাদের হা’রিয়েছে বলিউড। মৃ’ত্যুর মিছিল যেন ক্রমেই দীর্ঘায়িত হয়েছে।

ইরফান খান (‌১৯৬৭–২০২০)‌: বলিউড তথা হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দক্ষ অভিনেতা, যিনি সব চরিত্রে সাবলীল ছিলেন, সেই ইরফান খান প্রয়াত হলেন এ বছরের ২৯ এপ্রিল। মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে মা’রা যান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ইরফান খান ক্যা’ন্সারের স’ঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর ব’য়স হয়েছিল মাত্র ৫৩। ২০৮ সালে তিনি নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যা’ন্সারের ডায়গনোসিস করানোর পর থেকেই তাঁর শ’রীরের অবনতি হতে শুরু করে।

ইরফান নিজের চিকিৎসার জন্য প্রায়ই লন্ডনে যেতেন। লাইফ ইজ এ মেট্রো, লাঞ্চ বক্স, স্ল্যামডগ মিলেনিয়াম, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, পান সিং তোমার, পিকু, লাইফ অফ পাই, মকবুল, মাদারি,

কারওয়ান, হিন্দি মিডিয়াম সহ অসংখ্য ছবিতে নিজের অসাধরণ অভিনয় প্রতিভা দেখিয়েছেন। মৃ’ত্যুর আগে তাঁর শেষ ছবি অ্যাংরেজি মিডিয়াম, যা মুক্তি পায় ১৩ মার্চ।

ঋষি কাপুর (‌১৯৫২–২০২০): ইরফান খানের মৃ’ত্যুর পরের দিন অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল আর এক কিংবদন্তি অভিনেতা ঋষি কাপুরের মৃ’ত্যু হয়। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে ক্যা’ন্সারে ভুগছিলেন।

মৃ’ত্যুকালে তাঁর ব’য়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ২০৮ সালে ঋষি কাপুরের ক্যা’ন্সার ধরার পর তিনি চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে চলে যান। ২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি ফিরেও আসেন। ববি, খেল খেল মে, অমর আকবর অ্যান্টনি, ইয়ে বাদা রাহা, মেরা নাম জোকার, লয়লা মজনু,

প্রেম রো’গ, কর্জ, বোল রাধা বোল, চাঁদনি, নাগিনা, সরগম‌, দিওয়ানা, কাপুর অ্যান্ড সনস,

অগ্নিপথ, নসিব, দামিনী সহ বু ছবিতে রোম্যান্টিক হিরোর পাশাপাশি খল নায়কের চরিত্রেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। অনেক ছোট বয়েস থেকেই ঋষি কাপুর ওরফে চিন্টু অভিনয় করছেন। স্ত্রী নীতু কাপুর ও ছেলে রনবীর কাপুরও সিনেমার স’ঙ্গে যুক্ত।

সুশান্ত সিং রাজপুত (‌১৯৮৬–২০২০):‌ এ বছর সবচেয়ে অবাক দেশবাসীকে করেছে যাঁর মৃ’ত্যু তিনি হলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। গত ১৪ জুন বান্দ্রায় নিজের ফ্ল্যাটে ঝু’লন্ত অবস্থায় উ’দ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের দে’হ।

তার মৃ’ত্যু সংবাদ প্রকাশ হতেই দেশবাসী সহ গোটা বলিউড গুম মে’রে যায়। তার মৃ’ত্যু নিয়ে বলিউডের প্রচুর অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক-প্রযোজককে ডেকে তাদের বয়ান রেকর্ড করে বান্দ্রা পু’লিশ।

এমনকী এই মৃ’ত্যুকাণ্ডের ত’দন্তে নামে সিবিআইও। কিন্তু সকলের ত’দন্তে এটাই উঠে আসে যে সুশান্ত মানসক অবসাদে ভুগছিলেন এবং তার থেকেই তিনি আত্মহ’ত্যা করেন।

সুশান্তের মৃ’ত্যু হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বজন পোষণকে জাগিয়ে তোলে। সোশ্যাল মিডিয়া সুশান্তের মৃ’ত্যুর বিচারের জন্য সরব হয়। সুশান্তের মৃ’ত্যুর স’ঙ্গে যোগ হয় বলিউড মা’দক মা’মলাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here