ধ**র্ষণচেষ্টা মা’মলা করতে গিয়ে গৃহবধূ হলেন প’তিতা। বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় এই ঘ’টনা ঘটেছে। ওই গৃহবধূকে প’তিতা বানিয়ে আ’দালতে চালান দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই গৃহবধূ বলেন, থানায় ধ**র্ষণচেষ্টার মা’মলা করতে গেলে মা’মলা না নিয়ে পাল্টা ২৯০ ধারায় মা’মলা দিয়ে তাকে যৌ*aনকর্মী হিসেবে আ’দালতে সোপর্দ করা হয়েছে। থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান এই কাজ করেছেন বলে জানান ওই গৃহবধূর মা।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে শিবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওসি বদিউজ্জামান ও থানার এসআই রতন কুমার রায়ের বিচার দাবি করেন ওই গৃহবধূর মা।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বদিউজ্জামান বলেছেন, ওই গৃহবধূ অসামাজিক কার্যকলাপের সময় জনগণ হাতেনাতে আ’টক করে পু’লিশে দেয়।

গৃহবধূর মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার মে’য়ের স’ঙ্গে সিহালী ফকিরপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে কলেজছাত্র রামিম হাসান রিমনের প্রেমের সম্প’র্ক ছিল।

রিমনের পরিবার রাজি না থাকায় আমি মে’য়েকে সিহালী ফকিরপাড়া গ্রামে বিয়ে দিই। বিয়ের পরও রিমন আমার মে’য়ের স’ঙ্গে মোবাইল ফোনে সম্প’র্ক অব্যাহত রাখেন।

স্বা’মী বাড়িতে না থাকায় তিনি গত ২৪ নভেম্বর দুপুরে মে’য়ের বাড়িতে ঢোকেন এবং তাকে ধ**র্ষণের চেষ্টা করেন। পিরব ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কাশেম বাড়িতে ঢুকে রিমন ও তার মে’য়েকে ধরে পু’লিশকে খবর দেন। পরে শিবগঞ্জ থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ও এসআই রতন কুমার রায় দুজনকে আ’টক করে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, আমার মে’য়ে রিমনের বি’রুদ্ধে ধ**র্ষণচেষ্টার মা’মলা করতে চাইলে পু’লিশ তা নেয়নি। তারপর দুজনকে দ’ণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় মা’মলা দিয়ে (প’তিতাবৃত্তি) চালান দেয়া হয়। পরে আ’দালত দুজনকে জা’মিনে ছেড়ে দেয়।

ওই গৃহবধূর মা আরও বলেন, এসআই রতন কুমার রায় আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পু’লিশ কর্মকর্তারা ধ**র্ষণচেষ্টার মা’মলা না নিয়ে তার মে’য়েকে যৌ*aনকর্মী হিসেবে চালান দিয়ে তাদের সম্মান ন’ষ্ট করেছেন। বর্তমানে মে’য়েকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

এতে আমার মে’য়ে মা’নসিকভাবে বি’পর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উপায় না পেয়ে মে’য়ে আ’দালতে মা’মলা করেছেন। আমি এ ঘ’টনায় জ’ড়িত পু’লিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূ’লক শা’স্তি দাবি করছি।

শিবগঞ্জ সার্কেলের এএসপি আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ঘ’টনার সময় তিনি ছুটিতে থাকায় বি’ষয়টি তার জানা নেই।

এসপি আলী আশরাফ ভুঞা জানান, গৃহবধূর অভিযোগ পেয়েছেন, তবে তার মায়ের অভিযোগ সত্য নয়। জনগণ তাদের হাতেনাতে ধরে পু’লিশে দিয়েছে। তাই দুজনকে ২৯০ ধারায় কোর্টে চালান দেয়া হয়।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রিমনের স’ঙ্গে ওই গৃহবধূর মাদরাসা জীবনে প্রেমের সম্প’র্ক ছিল। বিয়ের পরও রিমন তার স’ঙ্গে মোবাইল ফোনে সম্প’র্ক রাখেন। গত ২৪ নভেম্বর দুপুরে রিমন ওই গৃহবধূর স্বা’মীর বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করার একপর্যায়ে ঘরে ঢুকে পড়েন।

এ সময় সেখানে থাকা ইউপি মেম্বার আবুল কাশেম তাদের আ’টক করে চি’ৎকার শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত দুজনকে আ’টকে রাখেন তিনি। পরে তিনি তাদের শিবগঞ্জ থানায় সোপর্দ করেন। পরে পু’লিশ রিমনের বাবার স’ঙ্গে যোগাযোগ করে গৃহবধূকে প’তিতা হিসেবে কোর্টে চালান দেয়।

এ ঘ’টনায় পু’লিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ওই গৃহবধূ এসপি, শিবগঞ্জ সার্কেলের এএসপিসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ও আ’দালতে মা’মলা করায় এসআই রতন কুমার রায়কে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here