কুলাউড়া ইউএনও অফিসের অফিস সহায়ক রুনা বেগম। তার বি’রুদ্ধে স’রকারি ঘরের তালিকায় নাম সংযুক্ত করে দেয়ার জন্য হতদরিদ্র না’রীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ১০ থেকে ১২ জন না’রী ইউএনও এটিএম ফরহাদ চৌধুরীকে সরাসরি বি’ষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক কয়েকজনের টাকা ফেরৎ দেন রুনা। এই রুনা বেগমের আরও নানা অ’পকর্মের গুঞ্জন রয়েছে মানুষের মাঝে।

অ’ভিযোগ রয়েছে, পার্শবর্তী উপজে’লা শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা রুনা বেগম ২০১৩ সালে কুলাউড়ায় যোগদানের পরপরই নানা অ’পকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

নিজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেক সময় কোন পাত্তাই দেন না। স’রকারের উপর মহলে তার নিজস্ব লোক আছে, এমনটি প্রচার করে অফিসে নিজের মনমর্জি আসা-যাওয়া এবং চলাফেরা করেন। তার দম্ভোক্তিমূ’লক কথার স্রোতে অনেকেই তার সাথে তর্কে জড়ানোর সাহস করেন না।

উপজে’লার ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকার বাসিন্দা হোছনারা বেগম জানান, তিনি বিভিন্ন কাজে উপজে’লা পরিষদে আসা-যাওয়া করেন।

এরপর পরিচয় হয় ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহায়ক রুনা বেগমের সাথে। এই সুবাদে রুনা বেগম তাকে বলেন, এলাকায় হতদরিদ্র না’রী থাকলে তাদের নাম তিনি স’রকারি ঘরের তালিকায় তুলে দিতে পারবেন। বিনিময়ে তাকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দিতে হবে।

এই কথা শুনে হোছনারা বেগম সাদিপুর ও মীরশংকর এলাকার ২০ জন হতদরিদ্র না’রীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং জনপ্রতি ১ হাজার করে ২০ টাকা রুনা বেগমের হাতে তুলে দেন।

সেখান থেকে রুনা বেগম যাতায়াত খরচের জন্য হোছনারাকে কিছু টাকা দেন। কিন্তু টাকা নেয়ার ৩ মাস পর থেকে রুনা বেগম তাকে কোন পাত্তাই দিচ্ছেন না।

অফিসে গেলেই এই সপ্তাহে হবে, আগামী সপ্তাহে হবে বলে ফিরিয়ে দেন। এলাকার ম’হিলাদের বকাঝকা সইতে না পেরে হোছনারা নিরুপায় হয়ে ইউএনও’র শরণাপন্ন হন।

একই ইউনিয়নের মীরশংকর এলাকার বাসিন্দা রুবেনা বেগম, আছলিমা বেগম, আমেনা বেগম, রেনু বেগমসহ উপস্থিত ১০-১২ জন না’রী জানান, তারা সকলেই পৃথকভাবে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা করে রুনা বেগমের কাছে দিয়েছেন।

তিনি (রুনা) বলেছেন স’রকারি ঘরের তালিকায় তাদের নাম দেবেন। তারা সকলেই পাকা ঘর পাবে। কিন্তু এখন রুনা বেগম টালবাহা’না শুরু করায় তারা ইউএনও’র কাছে বি’ষয়টি জানাতে এসেছে তারা। বি’ষয়টি নিয়ে তারা লিখিত অ’ভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহায়ক রুনা বেগম ২০ হাজার টাকার বি’ষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯শ’ টাকা নিয়েছিলাম। কিন্তু স্যারের কাছে বিচার দেয়ায় সেই টাকাগুলো ফেরৎ দিয়েছি।

কুলাউড়া উপজে’লা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, কয়েকজন না’রী এসে বি’ষয়টি বলার পর রুনা বেগমকে তাৎক্ষণিক টাকা ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ভু’ক্তভোগীরা লিখিত অ’ভিযোগ দিলে ত’দন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here