প্রথমে মানুষ তাকে নিয়ে হাসতো। তাদের কার্যক্রম সম্প’র্কে প্রশ্ন নিয়ে তাকাতো। বলাবলি হতো, এমন কত দেখেছি। এরাও পা’লিয়ে যাবে। কিছু করতে পারবে না।

এমন সব কথা তরুণদের আ’হত করতো। কিন্তু তাদের কর্ম-উদ্দীপনা কমাতে পারতো না। এখন সেই তরুণরা বদলে গেছে। পৌঁছতে স’ক্ষম হয়েছে নিজস্ব লক্ষ্যে।

যারা একসময় ভাবতেন, ওদের দিয়ে কিছুই হবে না-তারাই এখন তাদের গড়া প্রতিষ্ঠানের স’ঙ্গে যুক্ত হতে চান।

বলছিলাম চাঁদপুরের নবসৃষ্টি বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোক্তা ম. নূরে আলম পাটওয়ারী এবং সংশ্লিষ্টদের পথচলার কথা। নূরে আলম প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার মুখেই শোনা যায় সমিতির সু’খ-দুঃখের গল্প।

তিনি সমিতি প্রতিষ্ঠার নেপথ্য সম্প’র্কে বলেন, আমাদের এলাকার জামাই নূরুল ইসলামের স’ঙ্গে দেখা হলে বলতেন, আপনারা একটা সমিতি করতে পারেন। এটা ছিল ২০০৪-২০০৫ সালের ঘ’টনা। আমাদের স’ঙ্গে দেখা হলে প্রায়ই তিনি এ কথা বলতেন।

প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও একসময় তার কথার গুরুত্ব বুঝতে পারলাম। আমরা তখন বেশকিছু মিটিং করি। এসব মিটিং হতো প্রতিবেশীদের বাড়িতে। কারণ তখন তো অফিস ছিল না।

২০০৮ সালের দিকে নবসৃষ্টি বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রাথমিক মূ’লধ’ন ছিল ৬৫ হাজার টাকা। এ মূ’লধ’ন এখন ৫ কোটি টাকারও বেশি।

বর্তমানে সমিতির শেয়ার হোল্ডার ২৮ জন। মোট সদস্য প্রায় ১২শ। অথচ প্রথম’দিকে এ সমিতি সদস্যদের সর্বোচ্চ ঋ’ণ দিতো ৩ হাজার টাকা। তখন জনবল ছিল মাত্র ২ জন। পরবর্তী লোন-লিমিট ছিল ৫ হাজার টাকা। এ টাকাও সমিতি থেকে একবারে দিতে পারতো না।

নূরে আলম পাটওয়ারী বলেন, শুরুর দিকে আমাদের প্রতিবন্ধকতা ছিল অনেক। শুরুতে আমাদের অফিস ছিল না। আমরা তখন ফাইলপত্র নিয়ে স্বজন-সুহৃদদের বাড়িতে বসতাম। তখন মানুষ আমাদের দেখে হাসতো। কিন্তু আমরা আমাদের মতো কাজ করে যেতাম।

নবসৃষ্টি বহুমুখি সমবায় সমিতি সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। সমিতির অসচ্ছল সদস্যদের চিকিৎসার খরচ বহন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে বইসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়া, ঈদ-উপহার, সামাজিক সংগঠনে মাসিক অনুদান দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ক’রোনাকালে সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। প্রভাব পড়েছে নবসৃষ্টি বহুমুখি সমবায় সমিতিতেও।

প্রতিষ্ঠানটি ক’রোনার কারণে অনেক ঋ’ণগ্রহিতার লভ্যাংশ মওকুফ, অনেকের ক্ষেত্রে শিথিল করেছে। আবার অনেককে সমিতি থেকে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। ক’রোনাকালেও অ’সহায় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি।

সমিতির ভবি’ষ্যৎ পরিকল্পনা সম্প’র্কে ম. নূরে আলম পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষা বিস্তারে কাজ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

আমরা একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ করতে চাই। এ ছাড়াও একটি ডেইরি ফার্ম করার চিন্তা আছে। আমাদের এলাকায় কোনো পাঠাগার নেই। সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এলাকায় একটি পাঠাগার করতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here