বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রা’প্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার এবং সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।একটি গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি কলকাতার একটি পূজা অনুষ্ঠানে অংশ নিলে দেশব্যাপী আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠলে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে লাইভে এসে এর জন্য ক্ষমা চান সাকিব। এটা তাঁর উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাকিবের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই বিচারক।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “যেদিন শুনলাম সাকিব কলকাতায় যাচ্ছেন শ্যামা পূজার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে,

সেদিন আ’নন্দে বুকটা ভরে উঠেছিল এই ভেবে যে, আমাদের বিশ্বজয়ী টাইগারদের নেতৃস্থানীয়জন দ্বারা শ্যামা পূজার উদ্বোধ’ন, সম্প্রীতির উজ্জ্বল, অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। কিন্তু দুই দিন পরেই হলো ছন্দ পতনের পালা।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযু’দ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, মুজিব আদর্শের ধারক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং অসা’ম্প্রদায়িকতার ধারণাকে মুক্তিযু’দ্ধের অন্যতম চেতনা হিসেবে যারা ধারণ করেন তাদের সবাইকে মা’রাত্মকভাবে হতাশ করে, ম’র্মাহত করে, ক্ষু’ব্ধ করে আমাদের কথিত ব্যাঘ্ররাজ সাকিব আসলে ধর্ম ব্যবসায়ীদের র’ক্তচক্ষু দেখে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন।

ঘ’টনাটা অনেকটা এমন বাঘ শি’কারে প্রস্তুতি নিয়ে যখন দেখল একদল হরিণ তেড়ে আসছে তখন সে পিছুু হটল। এর মধ্যে অবশ্য এক মগজ ধোলাই করা ধর্মান্ধ ফেসবুকে সাকিবকে হ’ত্যা করার ভ’য় দেখাল।”

সাকিবের এমন পিছুটানের ঘ’টনায় তিনি আরো বলেন, “হ’ত্যার ভীতি নিশ্চিতভাবে প্রায় সবাইকে শঙ্কিত করে।

কিন্তু বিচক্ষণ মানুষদের উচিত সেই ভীতি ঠেকানোর জন্য কার্যকর পন্থা অনুসরণ করা, ভীতিকারদের কাছে আত্মসমর্পণ করা নয়। আমি যখন কাদের মোল্লার ফাঁ’সির রায় দেওয়ার জন্য হাই কোর্টের পথে তখন বেশ কয়েকজন আমাকে হ’ত্যার ভ’য় দেখিয়েছিল। আমি সেই ভ’য়কে মোটেও ভ্রূক্ষেপ করিনি।

তাদের ভ’য়ে সেদিন ভীত হলে তা হতো দেশের প্রতি চ’রম বিশ্বাসঘা’তকতা। দেশের মানুষ আমাকে নর্দমায় নি’ক্ষেপ করতেন। সব হু’মকি উপেক্ষা করে আমি কোর্টে পৌঁছে অন্য তিন মাননীয় বিচারপতির স’ঙ্গে কাদের মোল্লার ফাঁ’সির আদেশে দস্তখত করেছিলাম। একজন স্বাভাবিক মানুষের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশা হওয়ার কথা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here