বাংলাদেশে করো’না সংক্র’মণের দ্বিতীয় প্রহর শুরু হয়ে গেছে- এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত দুইদিনে করো’না সংক্র’ম’ণের যেমন ঊর্ধ্বগতি, তেমনি বেড়েছে মৃ”ত্যুর সংখ্যাও।

সামনের দিনগুলোতে মৃ”ত্যু এবং আক্রা’ন্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আ’শ’ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতোমধ্যে স’রকার ঘোষণা করেছে, স্বাস্থ্যবিধি ক’ঠোরভাবে মানতে হবে, সেইসাথে মাস্ক ব্যবহারের জন্য মোবাইল কোর্টেরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভা’র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।মাস্ক ব্যবহার কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানাই করো’না মোকাবেলার একমাত্র সমাধান নয় বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধ’নম ঘেব্রেইয়েসা’স পরিষ্কারভাবে বলেছেন, করো’না প্র’কো’প থেকে বাঁ’চার জন্য লকডাউন এর বিকল্প নেই।

কিন্তু শীতের শুরু থেকে বিভিন্ন দেশ লকডাউন শুরু করে দিয়েছে।ইতোমধ্যে ইউরোপের ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি লকডাউনে গেছে।

ব্রিটেনেও আংশিক লকডাউন করা হয়েছে। নতুন করে লকডাউনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে আরও কিছু দেশে। এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি করবে।স’রকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, স’রকার এখন পর্যন্ত লকডাউন বা সাধারণ ছুটির কোন পরিকল্পনা নাই। স’রকার সেদিকে যেতেও চাচ্ছেনা।

স’রকারের একজন দায়িত্ব শীল মন্ত্রী বলেছেন, কতগুলো বাস্তবতা আমাদের অনুকূলে রয়েছে।প্রথমত, বাংলাদেশের মৃ”ত্যুর হার অনেক কম।

যার ফলে করো’না ফ্লু বা ঠা’ন্ডা জ্ব’র বা ডে’ঙ্গুর মতোই একটি রো’গ। এ রো’গের জন্য যে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, অনেকে ঘরে থেকেও সুস্থ হয়ে উঠছে। কাজেই স’রকার লকডাউনের মতো সি’দ্ধান্ত নিয়ে অর্থনৈতিক কর্মপ্রবাহকে বন্ধ করে দেয়ার বি’ষয়টি ভাবছে না।

দ্বিতীয়ত, বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, বিশ্বের যে অ’ভিজ্ঞতা থেকে একটি বি’ষয় স্প’ষ্ট হয়েছে যে লকডাউন কোন সমাধান নয়।

বরং মাস্ক পরিধান করা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হল একমাত্র সমাধান। আর এ বিবেচনা থেকে স’রকার সামনের দিনগুলোতে লকডাউন এর বদলে স্বাস্থ্য বিধি মানার উপরেই গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশে করো’না পরিস্থিতি অনেক বেড়ে যায় এবং মৃ”ত্যু সংখ্যা বাড়ে সেক্ষেত্রে কি করবে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তা বলেছেন যে, এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে আম’রা স্বাস্থ্যবিধির উপরে আরো ক’ঠোরতা আরো’প করব। ধাপে ধাপে আম’রা বিভিন্ন বি’ষয় নিয়ে নি’ষে’ধাজ্ঞা আরোপ করব।

যেমন এখন বাজার-হাট সবসময় খোলা আছে। দো’কান-পাট অবাধে খোলা আছে। প্রেক্ষাগৃহ খু’লে দেয়া হয়েছে।

যদি করো’নার প্র’কোপ বাড়তে থাকে তাহলে এই বি’ষয়গুলোর দিকে প্রথমে বাজার-হাট সীমিত করা হবে। উন্মুক্ত স্থানে দূরত্ব রেখে বাজার হাটের ব্যবস্থা করা হবে, যেটি প্রথম পর্যায়ে করা হয়েছিল।

দোকানপাট খোলার ক্ষেত্রে সময় সীমিতকরণ করা হবে এবং সেখানে ক’ড়াক’ড়ি আরোপ করা হবে। তবে স’রকার মনে করে যে, অর্থনৈতিক কর্মকা’ণ্ড বন্ধ করে করো’না মোকাবেলার নীতি সঠিক নয়।

এজন্য স’রকার এখনো কোনো লকডাউনের পথে যায়নি।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অ’ভিজ্ঞতার আলোকে স’রকার মনে করছে যে, বাংলাদেশের করো’না পরিস্থিতি খুব ভ’য়াব’হ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মত পরিস্থিতি হবে না।

তবে এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ বলেন যে, এর আগে যখন ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের করো’নার সময় শুরু হয়নি। তখনো স’রকার বলেছিল যে বাংলাদেশের করো’না পরিস্থিতি তেমন ভ’য়ঙ্ক’র রূপ ধারণ করবে না।

বাংলাদেশে করো’নার ব্যা’পক বিস্তৃত হবে না। সার্স যেমন বাংলাদেশে ব্যা’পক বিস্তৃত হয় নি, সে রকম করো’না থেকেও বাংলাদেশ দূরে থাকবে।কিন্তু পরবর্তীতে করো’নার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘ’টেছিল, যদিও বেশ ভ’য়ং’কর হয়নি।

আর এ কারণেই মনে করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে এখন থেকেই বিকল্প চিন্তা করা উচিত।এদিকে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে আরও ৩৯ জনের মৃ”ত্যু হয়েছে, যা গত ৫৭ দিনে সর্বোচ্চ।

আর গত একদিনে শনা’ক্ত হয়েছে আরও ২ হাজার ২১২ জন করো’না রো’গী, যা গত ৭৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশে করো’নাভাই’রাসে একদিনে ৪০ জনের মৃ”ত্যু হয়। এর পর মৃ”ত্যুর সংখ্যা তুলনামূ’লক কমতে থাকে।

এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে একদিনে ২ হাজার ৫৮২ জন করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত রো’গী শ’নাক্ত হয়। এর পর প্রতিদিন ২ হাজারের নিচে শ’না’ক্ত হয় করো’না আক্রা’ন্ত রো’গী।মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করো’নাবি’ষয়ক সংবাদ বি’জ্ঞপ্তিতে এ ত’থ্য জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here