কথায় আছে আজকের শি’শুই আগামী দিনের পিতা। আজ যে শি’শুর জ’ন্ম হলো সে-ই আগামী দিনে কারো বাবা হবেন।

সবার জীনধারায় শি’শু থেকে বাবা হওয়ার পথ পরিক্রমায় প্রকৃতির নিয়মে বাস্তব অনেক অ’ভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়ে যায়। আর একটা সময় জীবনের বাস্তবতাগুলো প্রকৃতির নিয়মে প্রকাশিত হয়ে শি’শু থেকে আজকে যিনি বাবা হলেন তার সামনে এসেও ধরা দেয়।

বাবা-ছেলের কথোপকথনে এমন বাস্তব কিছু বি’ষয় উঠেছে। সত্যি এসব বি’ষয়গুলো হৃদয়ঙ্গম করলে প্রত্যেকটি ছেলের মন বাবার প্রতি শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় অবনত হয়ে যাবে। পাশাপাশি প্রত্যেক বাবা-ছেলের মাঝে ভালোবাসার একেকটি সেতুবন্ধ’ন গড়ে উঠেবে।

বাবা-ছেলের কথোকথনে বাস্তব এমন কিছু বি’ষয় উঠে এসেছে। তাহলে চোখে জল আসার মতো তাদের সেই কথপোকথনের বিস্তারিত জানা যাক-

ছেলে: “বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋ’ণ কোনদিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো তুমি কি জানো আমি আগামী তিন বছরে সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো”।
বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) “একটা গল্প শুনবি?”
ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো-
“বলো বাবা শুনবো……”

তোর বয়স যখন চার আমার মাসিক আয় তখন দু হাজার টাকা। ওই টাকায় সংসার চা’লানোর ক’ষ্ট বাড়ির কাউকে কখোনো বুঝতে দেইনি।

আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় চেষ্টা করেছি তোর ‘মা কে ‘সু’খী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার ই প্রথম আমরা দুজন- আমি-আর তোর মা পরিকল্পনা করেছি আমরা তোর পড়ার খরচের বিনিময়ে কি কি ত্যাগ করবো।

সে বছর তোর মাকে কিছুই দিতে পারিনি আমি। তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মো’টা মুটি ভাল। কিন্তু খুব ক’ষ্ট হয়ে গেছিল যখন তোর মা খুব অ’সুস্থ হয়ে পড়েছিল।

ঔষধ কেনার জন্য রোজ রোজ ওভারটাইম করে বাসে করে পায়ে হেটে ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরতে খুব দুর্বি’ষহ লাগতো। কিন্তু কখনো কাউকে বুঝতে দিইনি এমনকি তোর মাকেও না।

একদিন শো রুম থেকে একটা বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বাইকে চড়ে কাজে যাচ্ছি।

কিন্তু পরের দিন তুই বায়না ধরলি ল্যাপটপ এর জন্য। তোর ক’ষ্টে আমার ক’ষ্ট হয় বাবা। আমি তোকে ল্যাপটপ টা কিনে দিয়েছিলাম। আমার তখনকার এক টাকা তোর এখন এক পয়সা! কিন্তু মনে করে দেখ এই এক টাকা দিয়ে তুই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিস।

ব্র্যান্ড নিউ মোবাইলে হেড ফোন কানে লাগিয়ে সারা রাত গান শুনেছিস। পিকনিক করেছিস, ট্যুর করেছিস, কন্সার্ট দেখেছিস। তোর প্রতিটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো।

আর তোর একশ টাকা নিয়ে আমি এখন সুগার মাপাই। জানিস আমার মাছ খাওয়া নি’ষেধ, মাংস খাওয়া নি’ষেধ, কি করে এত টাকা খরচ করি বল! তোর টাকা নিয়ে তাই আমি কল্পনার হাট বসাই।

সে হাটে আমি বাইক চালিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াই। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই। তোর মায়ের হাত ধরে তাঁত মেলায় ঘুরে বেড়াই।

বাবারা নাকি “খাড়ুশ টাইপের” হয় । আমিও আমার বাবাকে তাই ভাবতাম। পুরু’ষ থেকে পিতা হতে আমার কোনো ক’ষ্ট হয়নি, সব ক’ষ্ট তোর মা সহ্য করেছে।

কিন্তু বিশ্বাস কর পিতা থেকে দ্বায়িত্বশীল পিতা হবার ক’ষ্ট একজন পিতাই বোঝে। যুগে যুগে সর্বস্থানে মাতৃবন্দনা হলেও পিতৃবন্দনা কোথাও দেখেছিস ?

পিতৃবন্দনা আমি আশাও করি না। স’ন্তানের প্রতি ভালোবাসা কোনো পিতা হয়তো প্রকাশ করতে পারে না, তবে কোনো পিতা কখনোই স’ন্তানের প্রতি দ্বায়িত্ব পালনে বিচ্যুত হয় না।

আমি তোর পেছনে আমার যে ক’ষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেছি তা হয়তো তুই তিন বছরে শোধ দিতে পারবি…
কিন্তু যৌ’বনে দেখা আমার স্বপ্ন গুলো ?
যে স্বপ্নের কাঠামোতে দাঁড়িয়ে তুই আজ তোর ঋ’ণশোধের কথা বলছিস.
সেই স্বপ্নগুলো কি আর কোনোদিন বাস্তব রুপ পাবে ?

আর যদি বলিস বাবা আমি তোমার টাকা না তোমার ভালোবাসা তোমায় ফিরিয়ে দেব, তাহলে বলবো বাবাদের ভালোবাসা কখনো ফিরিয়ে দেয়া যায় না।

তোকে একটা প্রশ্ন করি, ধর তুই আমি আর তোর খোকা তিন জন এক নৌকায় বসে আছি। হঠাৎ নৌকা’টা ডুবতে শুরু করলো….
যে কোনো একজনকে বাঁচাতে পারবি তুই।

কাকে বাঁচাবি ?
( ছেলেটা হাজার চেষ্টা করেও এক চুল ঠোঁট নড়াতে পারছেনা! )
উত্তর দিতে হবে না। ছেলেরা বাবা হয়, বাবা কখনো ছেলে হতে পারে না।
পৃথিবীতে সব চেয়ে ভারী জিনিস কি জানিস?
পিতার কাঁধে পুত্রের লা’শ!

আমি শুধু আল্লাহর কাছে একটা জিনিস চাই।
আমার শেষ যাত্রায় যেন আমি আমার ছেলের কাঁধে চড়ে যাই। তাহলেই তুই একটা ঋ’ণ শোধ করতে পারবি –
তোকে কোলে নেবার ঋ’ণ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here