এক স্বা’মীর তিন স্ত্রী। তারা আবার সহোদর। একস’ঙ্গে মিলেমিশেই সংসার করেন তারা। রূপকথার গল্পে নয়, ভারতেই দেখা মিলেছে তাদের। তিন বোনের একস’ঙ্গে করবা চৌথ ( সারাদিন উপবাসের পরে চাঁদকে সাক্ষী করে স্বা’মীকে দর্শন করা ) পালনের দৃশ্য দেখে বিস্মিত সবাই।

উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূট জে’লার বাসিন্দা কৃষ্ণ’র তিন স্ত্রী শোভা, রিনা ও পিঙ্কি একস’ঙ্গেই এই রীতি পালন করে স্বা’মীর দীর্ঘজীবন কামনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে ছবিটি।

তাদের বিয়ে হয়েছিল ১২ বছর আগে। একই অনুষ্ঠানে গাঁটছড়া বাঁধেন সবাই। প্রত্যেকেরই দুটি করে স’ন্তান রয়েছে। কাঁসিরাম কলোনিতে তাদের সংসার।
তাদের এক আত্মীয় জানান, গত ১২ বছর ধরেই সু’খে-শান্তিতে সংসার করছেন তারা। কৃষ্ণও স্ত্রীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখেন না।

ওই আত্মীয়ের কথায়, ‘ওই তিনজনই স্নাতক। তাদের স’ন্তানরাও একস’ঙ্গে আ’নন্দে থাকে। আমরাও ভেবেছিলাম এই বিয়ে টিকবে না। কিন্তু দেখতে দেখতে ১২ বছর তো হয়ে গেল!’ কিন্তু একস’ঙ্গে তিনজনকে কেন বিয়ের সি’দ্ধান্ত নিয়েছিলেন কৃষ্ণ? আত্মীয়স্বজনরা জানান, এই বি’ষয়টি কারও কাছেই খুলে বলেননি তিনি।

আরও পড়ুন : মা’র্কিন প্রে’সিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে চলছে টান টান উ’ত্তেজনা। বর্তমান প্রে’সিডেন্ট, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রা’ম্পকে পেছনে ফে’লে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র, যিনি জো বাইডেন নামেই বেশি পরিচিত। তিনি সাবেক মা’র্কিন প্রে’সিডেন্ট বারাক ওবামার স’ঙ্গে দুই মেয়াদে ভাইস প্রে’সিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জো বাইডেনের জ’ন্ম ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভানিয়ার স্ক্রানটনে। চার ভাইবোনের মধ্যে বাইডেন সবার বড়। তিনি স্ক্রানটন, নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ার জে’লাতে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র। আর তার মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান একজন আইরিশ বংশোদ্ভূত মা’র্কিন নাগরিক।

জো বাইডেন ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি থেকে আইনের ও’পর ডিগ্রি নেন। বাইডেন ১৯৬৬ সালে সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় নিলিয়া হান্টারকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে তিন স’ন্তান রয়েছেন। এরা হলেন—জোসেফ আর ‘বিউ’ বাইডেন, রবার্ট হান্টার ও নাওমি ক্রিস্টিনা। ১৯৭২ সালে বড় দিনের আগে ক্রিসমাস ট্রি কিনতে গিয়ে ভ’য়া’বহ সড়ক দু’র্ঘট;নায় নিলিয়া নি’হত হন। তার মে’য়ে নাওমিও দুর্ঘ’টনায় মা’রা যান।

স্ত্রী নিলিয়াকে বাইডেন বলেছিলেন, ৩০ বছর ব’য়সের মধ্যে তার স্বপ্ন সিনেটর হওয়ার। সিনেটর হওয়ার পরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রে’সিডেন্ট হওয়া। তিনি তার লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। নিলিয়াকে হা’রানোর ১ বছরের মাথায় ১৯৭৩ সালে বাইডেন জিল ট্রেসি জ্যাকবকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে অ্যাশলে ব্লেজার নামে এক কন্যা স’ন্তান রয়েছে।

জো বাইডেন ১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৩০ বছর ব’য়সের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তার। ১৯৭২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জনপ্রিয় রিপাবলিকান সিনেটর স্যালেব বগসের বিপক্ষে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থী হন তিনি। এতে জয়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ৩০ বছর ব’য়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ব’য়সী পঞ্চম সিনেটর নির্বাচিত হন।

ডেলাওয়ার থেকে মোট ছয়বার সিনেটর নির্বাচিত হন জো। সিনেটের বিচার কমিটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। না’রীর বি’রুদ্ধে সহিং’সতা আইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করেন তিনি। ২০০৭ সালে আবার নির্বাচনে দাঁড়ান বাইডেন। তখন বারাক ওবামা প্রে’সিডেন্ট হন এবং রানিংমেট হিসেবে বেছে নেন বাইডেনকে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভাইস প্রে’সিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালে বাইডেন ফের প্রিয়জন হা’রান। তার বড় ছেলে বো বাইডেন মস্তি’ষ্কের ’ক্যা’নসারে আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা যান। তার মৃ’ত্যুতে ভে’ঙে পড়েন জো বাইডেন। ২০১৬ এর প্রে’সিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তিনি সরে যান। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের পর ঘুরে দাড়ান জো বাইডেন।

জো বাইডেন দীর্ঘদিন মা’র্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্প’র্ক বি’ষয়ক কমিটিতে কাজ করেছেন। সিনেটের এই কমিটির সভাপতি হিসেবে ২০১২ সালের অক্টোবরে আমেরিকার রিপাবলিকান প্রে’সিডেন্টের ইরাক যু’দ্ধে যাওয়ার বি’ষয়টিকে অনুমোদন দেওয়ার সি’দ্ধান্ত ছিল তার ও’পর।

এর ১১ বছর আগে উপসাগরীয় যু’দ্ধের প্রাক্কালে প্রে’সিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকে সাদ্দাম হোসেনের সে’নাবা’হিনীর বিরু’দ্ধে লড়া’ইয়ের অনুমোদনের বি’রুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন বাইডেন। বাইডেনের হুঁ’শিয়ারি স্বত্ত্বেও উপসাগরীয় যু’দ্ধের পক্ষে সি’দ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ওই যু’দ্ধে বেশ কয়েকজন মা’র্কিন সে’না মা’রা যায়। এরপর থেকে বাইডেনকে পররাষ্ট্র ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে দু’র্বলচিত্ত বলে তুলে ধরা শুরু হয়।

ওই ভোট নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ার পরবর্তী কয়েক বছর বাইডেন আন্তর্জাতিক বি’ষয়ে কট্টর অবস্থান দেখাতে শুরু করেন। এর ফল স্বরূপ তিনি বলকান গৃহযু’দ্ধে আমেরিকান অবস্থান, ইরাকে বো’মা হা’মলা এবং আফগানিস্তানে দ’খলদারিত্ব কায়েমের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেন।

প্রে’সিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকের কাছে ব্যাপক বিধ্বং’সী অ’স্ত্র আছে এই অভিযোগে যখন ইরাকে নতুন করে যু’দ্ধ শুরুর প্রস্তাব করেন, তখন বাইডেন তাতে জো’রালো সমর্থন দিয়েছিলেন। ইরাক যু’দ্ধের পর তিনি বামপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি ইরাকে আমেরিকান সৈন্য সংখ্যা বৃ’দ্ধির বি’রোধিতা করেন এবং সেখান থেকে সে’না প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

জো বাইডেন ভাইস প্রে’সিডেন্ট হিসেবে আফগানিস্তানে মা’র্কিন বাহিনী জো’রদার করার এবং ওসামা বিন লাদেনের বি’রুদ্ধে অ’ভিযান চা’লানোর বিপক্ষে পরামর্শ দেন। মা’র্কিন প্রে’সিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি ইয়েমেনের গৃহযু’দ্ধে সৌদি আরবের প্রতি আমেরিকার সমর্থন বন্ধ করার পক্ষেও মত তুলে ধরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here