সিলেট নগরের বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে নি’র্যাতনে রায়হান আহম’দ হ’ত্যা মা’মলার প্রধান অ’ভিযুক্ত বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে অবশেষে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) রাতে ভারতের দনা বস্তির খাসিয়ারা ভারতের অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে এসআই আকবরকে আ’টক করে। খাসিয়াদের হাতে আ’টক হওয়ার পর আকুতি জানিয়ে এসআই আকবর বলেন, ‘আল্লাহর কসম ভাই, আমি ভাগব না। খোদার কসম ভাই, আমি ভাই আমি ভাগব না।’

এসময় উ’ত্তেজিত খাসিয়ারা ১০ হাজার টাকার জন্য কেন মে’রে ফেললে? প্রশ্ন করলে এসআই আকবর বলেন, অবস্থা খা’রাপ দেখে সাথে সাথে আমি হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এসময় একজন মা’রধরের অধিকার পেলে কিভাবে জানতে চান?তখন এসআই আকবর বলেন, আমি মারি নাই ভাই। তখন তাকে খাসিয়ারা দড়ি দিয়ে বেঁ’ধে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় আকবর দড়ি দিয়ে না বেঁ’ধে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেন

এর আগে রবিবার (৮ নভেম্বর) রাতে ভারতের দনা বস্তির খাসিয়ারা ভারতের অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে এসআই আকবরকে আ’টক করে। পরে সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে খাসিয়ারা তাকে তুলে দেয়। দ্রু’ত এসআই আকবর আ’টকের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সিলেটের জে’লা পু’লিশ ও কানাইঘাট থানা পু’লিশ সীমান্ত এলাকায় ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে আকবরকে উ’দ্ধার করে থানায় নিয়ে আসছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন থানার এসআই স্বপন চন্দ্র স’রকার।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে নি’র্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃ’ত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃ’ত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কে’টে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘ’টনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অ’জ্ঞাতনামাদের আ’সামি করে পু’লিশি হেফাজতে মৃ’ত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মা’মলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।১৪ অক্টোবর মা’মলাটি পু’লিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। ত’দন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘ’টনাস্থল বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নি’হতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি ম’রদে’হ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ম’য়নাত’দন্ত করা হয়।

নি’হত রায়হানের ম’রদে’হে ১১১টি আ’ঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ম’য়নাত’দন্ত প্রতিবেদনে। এসব আ’ঘাতের ৯৭টি ফোলা আ’ঘাত ও ১৪টি ছিল গু’রুতর জ’খমের চিহ্ন। এসব আ’ঘাতগুলো লা’ঠি দ্বারাই করা হয়েছে।

অসংখ্য আ’ঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অ’ঙ্গগুলো কর্মক্ষ’মতা হা’রানোর কারণে রায়হানের মৃ’ত্যু হয়েছে।এ ঘ’টনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে নি’র্যাতনে রায়হান আহম’দ হ’ত্যা মা’মলায় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রে’ফতারের পর পাঁচদিনের রি’মান্ডে নেয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রি’মান্ডে নেয় পিবিআই।

ঘ’টনার দিন বিকেলে মহানগর পু’লিশের পক্ষ থেকে একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নি’র্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। ত’দন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ই’নচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া,

কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করে তাদের পু’লিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।এছাড়া গত ২১ অক্টোবর এ ঘ’টনায় প্রধান অ’ভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও ত’থ্য গো’পনের অ’পরাধে বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here