বাংলাদেশে বেশ কিছু দিন ধরেই টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিনীত হয়েছে নিক্সন চৌধুরী। এক সময়ে যিনি ছিলেন আলোচনার পাত্র আজ তিনিই হয়েছেন সমালোচনার বি’ষয়। একটি বি’তর্কি’ত ফোনালাপ নিয়ে বেশ বাজে ভাবেই ফেঁসে গেছেন তিনি। আর এই কারনে তাকে ঘিরে হচ্ছে এত সমালোচনা।

একজন এসিল্যান্ড এবং জে’লার ডিসির সাথে বাজে আচরণ নির্বাচনী আইন ভঙ্গের সামিল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। আর এই কারনে তার নামে হয়েছে মা’মলাও। এ দিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে সং’সদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে ইমেডিয়েটলি (তাৎক্ষণিক) গ্রে’ফতার করতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ওই সং’সদ সদস্য শুধু নির্বাচনী আচরণবিধি ল’ঙ্ঘনই করেননি, তিনি নির্বাচনের স’ঙ্গে জ’ড়িত প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের হু’মকি-ধামকি দিয়ে ফৌজদারি অ’পরাধ করেছেন।

ফরিদপুরের স্বতন্ত্র সং’সদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর সম্প্রতি স্থানীয় একটি নির্বাচনকে ঘিরে ফোনালাপ ফাঁ’স হয়, যে ঘ’টনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ প্রস’ঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়, সাখাওয়াত হোসেনের কাছে।

তিনি বলেন, ফোনালাপ এবং ঘ’টনা সম্প’র্কে অবগত হয়েছি মিডিয়ার মাধ্যমে। অবাক হয়েছি। একজন সং’সদ সদস্য কী করে এমন আচরণ করতে পারেন! বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহম’দ বা এই সময়ের তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু যে পার্লামেন্টে, সেই পার্লামেন্টে এমন ব্যক্তি কী করে নির্বাচিত হয়ে আসে?

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত এক দশকে যে নির্বাচন ব্যবস্থা ভে’ঙে পড়েছে, তার প্রমাণ হচ্ছে এই ফোনালাপ। দল বা ব্যক্তির চা’পে নির্বাচন কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তা ওই সং’সদ সদস্যের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশন কী করার ক্ষ’মতা রাখে এক্ষেত্রে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবই করতে পারেন। প্রথমত, এই নির্বাচনটি বাতিল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, সং’সদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীকে গ্রে’ফতারও করার ক্ষ’মতা রাখে।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে, নির্বাচন কমিশন তাতে আন্তরিক কিনা? কারণ হু’মকি-ধামকি দিয়ে তিনি স্পষ্টত ফৌজদারি অ’পরাধ করেছেন। কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন এমন অ’পরাধ করার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, যা মানুষের অনাস্থা তৈরি করেছে। এ বি’ষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজে’লা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন পরবর্তী বিজয় সমাবেশে জে’লা প্রশাসকের (ডিসি) উদ্দেশ্যে হুঁ’শিয়ারি উচ্চারণ করেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চরভদ্রাসন উপজে’লা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফরিদপুরের ডিসিকে হুঁ’শিয়ারি দেন এমপি নিক্সন। সমাবেশে এমপি নিক্সন বলেন, প্রশাসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ওই জে’লা প্রশাসক শেখ হাসিনার চোখ ফাঁকি দিয়ে ১২ জন ম্যা’জিস্ট্রেট নিয়ে নৌকার কর্মীদের গ্রে’ফতার করেছেন, পি’টিয়েছেন।

তিনি বলেন, ’আমি জে’লা প্রশাসককে সাবধান করব আপনি ফরিদপুরে দেখেছেন অনেক বড় বড় নেতার পতন হইছে। ওই বরকত-রুবেলের যত অন্যায়-দু’র্নীতি তার স’ঙ্গে আপনার জে’লা প্রশাসনের লোকজন জ’ড়িত। বরকত-রুবেলের বিচার হলে জে’লা প্রশাসকেরও বিচার হবে। কারণ ওই দিপু খাঁর (আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্ব’ন্দ্বী কেএম ওবায়দুল বারী) বালুর ব্যবসার ভাগ পান জে’লা প্রশাসক।’

এমপি নিক্সন বলেন, ’জে’লা প্রশাসকের উদ্দেশ্য বলব, আপনি যত বড় উপদেষ্টার নাতি হোন না কেন; আপনি নিক্সন চৌধুরীর স’ঙ্গে চোখ রাঙাইয়া কথা বলবেন না। আমি যদি জনগণ নিয়া আপনার বি’রুদ্ধে আন্দোলনে নামি, আপনি নৌকার বি’রুদ্ধে কাজ করেছেন, আমার নেতাকর্মীদের গ্রে’ফতার করেছেন, নৌকার এজেন্টদের গ্রে’ফতার করেছেন, এসব নিয়ে রাস্তায় নামলে আপনি এক মিনিটও দম নেয়ার সুযোগ পাবেন না।’

বক্তব্যের এই পর্যায়ে জে’লা প্রশাসকের বি’রুদ্ধে যাবতীয় আ’পত্তিকর স্লোগান দিতে শুরু করেন নিক্সনের অনুসারীরা। ওই সমাবেশের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এমপি নিক্সন আরও বলেন, ’তিনি (ডিসি) এক উপদেষ্টার ভ’য় দেখান। তিনি মনে করেন ওই উপদেষ্টা তার ক্ষ’মতা। আরে এমন কত উপদেষ্টা দেখলাম মিয়া, কাজী জাফরউল্লাহর বেল নাই আর আপনি উপদেষ্টার ভ’য় দেখান। স’রকারি চাকরি করেন; বিএনপি নেতাদের চেযারম্যান বানানোর জন্য না। যুবদলের প্রে’সিডেন্ট দিপু খাঁর বালুর ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা ডিসি ঘুষ নিচ্ছেন বলেই আজ এ অবস্থা। আমরা এর বিচার অবশ্যই করব; আমরা এর বিচার চাই।’

এদিকে এ ঘ’টনায় নিক্সন চৌধুরীর বি’রুদ্ধে আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে মা’মলা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। বুধবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ত’থ্য জানিয়েছেন সিইসি।

এ দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে নিক্সন চৌধুরীর নামে ইতিমধ্যে মা’মলা করেছে দেশের নির্বাচন কমিশন। আর এই মা’মলার পরই তাকে নিয়ে নেয়া হবে পরবর্তি ব্যবস্থা। আর এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নুরুল হুদা বলেছিলেন, ’ফরিদপুর নিয়ে আমাদের সি’দ্ধান্ত হয়ে গেছে। সং’সদ সদস্য নিক্সন সাহেবের বি’রুদ্ধে মা’মলা করব।

হয়তো আজ বা কালকের মধ্যে থানায় মা’মলা রুজু হয়ে যাবে। নির্বাচন বিধিবহির্ভূত আচরণের জন্য আমাদের কাছে আলামত আছে যথেষ্ট, সেজন্য মা’মলা হবে। থানায় ত’দন্ত করে যে রকম পাবে, সে রকম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তার কথা অনুযায়ী আজ সপ্তাহের শেষ কার্য দিবসেই মা’মলা করা হলো তার নামে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here