বরগুনার রিফাত শরিফ হ’ত্যা মা’মলায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর আ’দালত ফাঁ’সির আদেশ দিয়েছেন মিন্নি সহ ছয় জনের। তবে গতকাল (৬ অক্টোবর) মিন্নি ফাঁ’সির আদেশের বি’রুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। তার আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এই আপিল আবেদন জমা দেন।

মিন্নির খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আবেদনে দেখানো হয়েছে ২১টি যুক্তি। আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘’সে (মিন্নি) তার স্বা’মী রিফাতকে দু’র্বৃত্তদের হা’মলা থেকে বারবার প্রা’ণপণে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আ’দালত রায়ে- মিন্নি রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি বলা হয়েছে। অথচ এসব স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আ’দালত আবেগপ্রবণ হয়ে মিন্নিকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন। তাই এ রায় বাতিলযোগ্য।‘’

মিন্নির আইনজীবী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আপিলের আবেদনটি মোট ৪৫১ পৃষ্ঠার। এই আপিলের আবেদনে ২১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে এমনটাও জানান আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম।

মিন্নির খালাস চেয়ে করা আপিলের ২১টি যুক্তি হল

১। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার দায়রা আ’দালতে যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তা আইন, ঘ’টনা এবং পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে একটি খা’রাপ নজির তৈরি করেছে।
২। মা’মলার চার্জশিটে ৭৫ জন সাক্ষী রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭, ১৩, ১৪ এবং ১৭ নম্বর সাক্ষী নিজেদের চাক্ষুষ সাক্ষী দাবি করা সত্ত্বেও তাদের ত’থ্য-প্রমাণ ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। তাই ওই রায়টি বাতিলযোগ্য।
৩। প্রাথমিকভাবে আপিলকারী (মিন্নি) এই মা’মলায় সাক্ষী ছিল। পরে তাকে মা’মলার আ’সামি করা হয়েছে। তাকে ৫ দিন পু’লিশ রি’মান্ডে রাখা হয়েছিল। ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালত রি’মান্ডের মধ্যবর্তী সময়ে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ আইনবহির্ভুতভাবে তার স্বী’কারোক্তিমূ’লক জবানব’ন্দি রেকর্ড করে। যার কারণে ওই রায়টি বাতিলযোগ্য।

৪। মিন্নি এ মা’মলার গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তা তাকে অ’পরাধী হিসেবে সাজা প্রদান করে রায় ঘোষণা করায় তা বাতিলযোগ্য।
৫। মিন্নির বি’রুদ্ধে আনীত অ’ভিযোগ আমলে না নিয়েই বরগুনার দায়রা জজ আ’দালত তার বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করেন। এখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। যা তাকে চ’রমভাবে ক্ষ’তিগ্রস্ত করেছে।
৬। মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা অস্বচ্ছতার স’ঙ্গে এ মা’মলার ত’দন্ত করেন এবং কোনোরকম আইনি ভিত্তি ছাড়া মা’মলার চার্জশিট দাখিল করেন, যা মোটেই নির্ভরযোগ্য নয়।

৭। আইনের সঠিক অনুসরণের অভাবে এ মা’মলায় মিন্নি নিজেকে রক্ষায় উপযুক্ত সুযোগ পায়নি।
৮। আ’দালত (বরগুনার) স’ন্দে’হপূর্ণ, মৌখিক সাক্ষ্য এবং ধারণানির্ভর অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় এ রায় দিয়েছেন, যা বাতিলযোগ্য।
৯। মা’মলা দা’য়েরের সময় বা’দী (রিফাতের বাবা) জানান, ঘ’টনাস্থল থেকে মিন্নি রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রিকশাযোগে এনে ভর্তি করেন এবং মিন্নিকে একমাত্র সাক্ষী করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মা’মলার ত’দন্ত শেষে মিন্নিকে আ’সামি করে দ’ণ্ড দেয়া হয়, এতে করে মিন্নি পরিস্থিতির শি’কার হয়েছেন।
১০। ওই ঘ’টনায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ত’থ্য থেকে এটা স্পষ্ট দেখা গেছে যে, সে বারবার তার স্বা’মী রিফাতকে আ’ক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আ’দালত তার রায়ে মিন্নি রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ এসব স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আ’দালত আবেগপ্রবণ হয়ে মিন্নিকে সাজাপ্রদানের রায় ঘোষণা করেছেন। তাই এ রায় বাতিলযোগ্য।
১১। মিন্নির বি’রুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা স’ন্দে’হাতীতভাবে অ’ভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি।

১২। মিন্নিকে সাজাপ্রদানের ঘ’টনা অনুমান ও ধারণানির্ভর। এ মা’মলায় সাক্ষীদের জেরাও বিবেচনা করা হয়নি। ফলে মিন্নিকে অ’পরাধী সাব্যস্ত করে সাজা সংক্রান্ত আ’দালতের রায়টি ভু’ল সি’দ্ধান্ত।
১৩। যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারিক আ’দালতের পক্ষ থেকে মিন্নিকে সাজাপ্রদানের বি’ষয়টি নির্ভরযোগ্য না হওয়ায় এ রায় বাতিলযোগ্য।
১৪। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা রাষ্ট্রপক্ষের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই মা’মলায় অতিরঞ্জিত করেছেন।
১৫। আপিলকারীকে প্রহসনমূ’লক ও অযৌক্তিকভাবে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

১৬। আপিলকারীকে দো’ষী সাব্যস্ত করা ব্যতীত বিচারক এই মা’মলায় অন্য আর কিছুই বিবেচনা করেননি।
১৭। দ’ণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় আপিলকারী এ মা’মলায় খালাস পাবেন।
১৮। পু’লিশ বা ম্যা’জিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষীরা বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ায় সেসব সাক্ষীরা মোটেও নির্ভরযোগ্য ছিল না।
১৯। সময়ে সময়ে এ মা’মলার যুক্ত হওয়া সাক্ষীদের ও’পর নির্ভর করে সাজা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সেসব সাক্ষীরা বিশ্বাসযোগ্য ছিল না।
২০। অগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করে এ মা’মলার বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে।
২১। যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকে এ মা’মলার ঘ’টনা, পারিপার্শ্বিকতা, ত’থ্য-প্রমাণের ও’পর নির্ভর করে রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) স’ন্দে’হাতীতভাবে মা’মলার অ’ভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ মা’মলায় মিন্নি খালাস পাওয়ার যোগ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here