এ বছর সরাসরি উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। জেএসসি-এসএসসি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূ’ল্যায়ন করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তায় সার্বিক বিবেচনায় ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূ’ল্যায়ন করা হবে। যেভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা বিবেচনা করছি। এ পরীক্ষার জন্য ৩০ থেকে ৩২ দিন সময় দরকার হয়। এক বেঞ্চে একজন ছাত্রী সম্ভব নয়। এখন কেন্দ্র দ্বিগুণ করার জনবল নেই।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ক’রোনা ম’হামা’রির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ক’রোনা কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন= ব্রেকিংঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব ছুটি বাতিল!

প্রা’ণঘাতী করো’নার প্রাদুর্ভাবে তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স’রকারি প্রাথমিকসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, এর কোনো ঠিক নেই। তবে ক্ষ’তি পোষাতে অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচারিত হচ্ছে।

কিন্তু এতে করেও সফল বলতে পারছেন না অনেকেই।এদিকে অনেক দেরিতে প্রকাশিত হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল।

যার ফলে পিছিয়ে গেছে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম। অন্যদিকে স্কুল-কলেজে প্রথম, দ্বিতীয় সাময়িক ও অর্ধ-বার্ষিকী’’’’ পরীক্ষাও হয়নি। এমনকি অনিশ্চতায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ জেএসসি, জেডিসি, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষাও।

এমন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু বিকল্প উপায় নিয়ে কাজ করার কথা একাধিকবার জানিয়েছে শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বর্তমান করো’না পরিস্থিতি আপাতত ঠিক না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায় এসব বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলেও জানায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষা ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে মোতাবেক কমতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সংখ্যা। আর চলতি শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরের পরিবর্তে মা’র্চ পর্যন্ত চলবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ হবে ৯ মাসে। অ’ত্যাবশ্যকী’’’’য় ছাড়া বাকি সব ছুটি বাতিল করার পরিকল্পনাও চলছে।

শনিবার এডুকেশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই’রাব) আয়োজিত ‘করো’নায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক ভা’র্চুয়াল সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব ত’থ্য জানান।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সংখ্যা কমানো নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে আসার ১৫ দিন পর এই পরীক্ষা নেয়া হবে।তিনি জানান, ১৫ দিন আগে শিক্ষার্থীদের নোটিস দিতে হবে

প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে সময় দিতে হবে। এবারের এইচএসসির সিলেবাস কমানোর যৌক্তিকতা নেই, কারণ তারা তাদের সিলেবাস সম্পন্ন করেছে। এখন যেটা হতে পারে পরীক্ষা নেয়া হবে। আবার লাখ লাখ পরিবার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের মানুষ, শিক্ষক সবাইকে ঝুঁ’কির মধ্যে ফেলব? আম’রা কম সময়ে করতে পারি কি না, কম পরীক্ষা নিতে পারি কি না- সবকিছুই ভাবছি।

শিক্ষাবর্ষের বি’ষয়ে দীপু মনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে কাউকে ঝুঁ’কিতে ফেলতে পারি না। কোনকিছু না পড়িয়েও পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা যাবে না। সেজন্য ক্ষ’তি পুষিয়ে নিতে আগামী মা’র্চ পর্যন্ত চলতি শিক্ষাবর্ষ বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া ছুটি কমিয়ে শ্রেণি ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেও ছুটি কমানো হবে।

তবে জেএসসি-জেডিসি, প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা বি’ষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সুস্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার জন্য সিলেবাস তৈরি হয় না, পরবর্তী ক্লাসে ওঠার জন্য যা শেখা প্রয়োজন তা শেখানো হয়। মূ’ল্যায়নের জন্য বছর শেষে পরীক্ষা হয়।

গ্যাপ হয়ে গেলে পরবর্তীতে বি’ষয়টি তাদের ভোগাবে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে।করো’না মহামা’রীর মধ্যে টিউশন ফি আদায়ে মানবিক হওয়ার অনুরোধ জানান দীপু মনি। এসময় যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের বেতন ছাড় দিতে স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ফি না পেলে শিক্ষকদের কি করে বেতন দেবে? শিক্ষকরা তো অধিকাংশই বেতনের উপর নির্ভরশীল। টিউশনিও বন্ধ। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাম’র্থ্য আছে তারা ফি কিস্তিতে বা কিছুদিন বাদ দিয়ে নিক। যতটা ছাড় দেয়া যায় সেটা চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

অ’ভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদেরও ছাড় দিতে হবে। স’ন্তান পড়াশোনা করছে, এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ মানে বেতন বন্ধ করা যায় না। এসময় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প বা বিনামূ’ল্যে ইন্টারনেট, ডিভাইসসহ বিভিন্ন বি’ষয়ে শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয় কাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here