সাধারণত উচ্চস্বরে কোরআন তেলাওয়াত শোনা যায় পুরু’ষ কণ্ঠে। সেই প্রথা ভে’ঙে এবার ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়শিয়ায় না’রীদের দেওয়া হচ্ছে উচ্চস্বরে কোরআন তেলাওয়াতের উৎসাহ।

বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মু’সলমানরা প্রার্থনার অংশ হিসেবে কোরআন তেলাওয়াত করেন। এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ পুরু’ষই জনসম্মুখে কোরআন তেলাওয়াত দক্ষ হয়ে উঠেছেন। অনেক জায়গায় পুরু’ষের সামনে না’রীদের তেলাওয়াতে নি’ষেধাজ্ঞা আছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে না’রীদের জনসম্মুখে তেলাওয়াতকে স্বীকৃতি দেয়া হয় না।

এই প্রথা ভাঙার চেষ্টা করছেন ইন্দোনেশিয়ার না’রীরা। তারা মনে করছেন, না’রীদের তেলাওয়াত করার রীতি ‘ইসলামে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত’।

বিবিসির ভিডিও বার্তায় এক না’রী কোরআন তেলাওয়াতকারী বলেন, আমার সুরে আবেগ-প্রেম-দরদ সব আছে। আমি ছোটবেলা থেকে কোরআন তেলাওয়াত করে আসছি।

আরও পড়ুন= নাইজেরিয়ায় গড়ে প্রতি ঘরে একজন কোরআনের হাফেজ !

কোরআন শিক্ষায় আফ্রিকান দেশ নাইজেরিয়া অনন্য এক গৌরব অর্জন করেছে। সম্প্রতি দেশটির একজন মু’সলিম নেতা দাবি করেছেন, নাইজেরিয়ায় গড়ে প্রতি ঘরে একজন করে হাফেজ রয়েছে।আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ার কোরআন হিফজ করার ঐতিহ্য রয়েছে। প্রত্যেক পরিবার চেষ্টা করে তাদের ঘরে যেন অন্তত একজন কোরআনের হাফেজ হন। কোনো কোনো পরিবারের একাধিক সদস্যও হাফেজ হন।

তাই বলা যায়, নাইজেরিয়ার প্রায় সব মু’সলিম পরিবারে একজন হাফেজে কোরআন রয়েছে। আর কেউ কোরআন পড়তে জানে না এমন মু’সলিম পরিবার নাইজেরিয়ায় নেই বললে চলে।ইসলামিক মুভমেন্ট অব নাইজেরিয়ার একজন মুখপাত্র মোস্তফা গারবা বলেন, ‘নাইজেরিয়ার ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রমের প্রায় সব স্তরে কোরআন শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষত কোরআন হিফজ করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।

মা-বাবা ও অভিভাবকরা শৈশব থেকেই চেষ্টা করেন যেন শি’শুরা কোরআনের প্রতি উৎসাহী হয় এবং তারা হিফজ সম্পন্ন করতে পারে।’তিনি আরো বলেন, ‘শি’শুদের কোরআনের প্রতি উৎসাহিত করতে অভিভাবকরা তাদের কিরাত মাহফিল ও কোরআনের মজলিসে নিয়ে যান।কন্যাশি’শুদের ঘরোয়া পরিবেশে কোরআন শেখানো হয়। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তারা অল্প অল্প করে হিফজ করতে থাকে।’

মোস্তফা গারবার মতে, দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা কোরআনের শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও শি’শুদের কোরআন হিফজ করতে উৎসাহিত করে।

ফলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই হিফজ শেষ করতে পারে।এ ছাড়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোও শি’শুদের মনে আ’গ্রহ তৈরি করে। নাইজেরিয়ায় শি’শু থেকে যুবক বয়সীদের জন্য অসংখ্য কোরআন হিফজের প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে।

নিজের অ’ভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি সাত বছর বয়সে কোরআনে কারিম হাতে নিয়েছি এবং সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি মাত্র ১২ বছর বয়সে হিফজ সম্পন্ন করার সৌভাগ্য অর্জন করি।’কোরআনের উচ্চতর জ্ঞানচর্চায় নাইজেরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে—দাবি মোস্তফা গারবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here