বরগুনায় আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হ’ত্যা মা’মলায় প্রা’প্তব’য়স্ক মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁ’সি রায় দেন আ’দালত। রায়ে অসন্তোষ মিন্নির বাবা ‘উচ্চ আ’দালতে আপিলের’ ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে আপিলের জন্য মিন্নির রায়ের ‘সার্টিফায়েড কপি’ পেতে ভোগান্তির শি’কার হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কি’শোর। শুক্রবার (০২ অক্টোবর)এ অ’ভিযোগ করেন মিন্নির বাবা।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কি’শোর বলেন, আমার মে’য়েকে একটি কাল্পনিক চার্জশিটে মাধ্যমে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফাঁ’সির আদেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আ’দালতে আপিল করতে ঐদিনই আমি রায়ের কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু দুই দিন পার হলেও এখনো রায়ের কপি হাতে পাইনি।

আর কবে পাবো তাও অনিশ্চিত। রায়ের সময় বলে দেওয়া হয়েছে আগামী ৭ দিনে ভিতরে আপিলের জন্য আবেদন করতে হবে। দুইদিন সাপ্তাহিক বন্ধ; যদি পাই তাহলে রবিবার। তাও নিশ্চিত না যে কপি হাতে পাব কি-না! পেলে ঢাকা যেতে দুইদিন লাগবে। এরপরে আপিলের জন্য আবেদন লিখতে হবে। হাতে একবারে অল্প সময়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সাংবাদিক একটু দেখেন আমাদের সাথে অবিচার করা হয়েছে। আ’দালতের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আস্থা নিয়েই বলি এখন যত দ্রু’ত আমার মে’য়ের রায়ের কপি হাতে পাই ততই আমাদের ভালো।

রায়ের কপি পেতে স’রকারের সহযোগিতা চাই। এই রায়ের কপি নিয়ে এত গড়িমসি করার কি দরকার? তাতে এইটাই প্রমাণিত হয় আমার মে’য়ে নির্দোষ। আমি আমার মে’য়েকে মুক্ত করতে পারব ।

এ বি’ষয়ে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, রায়ের কপি এখনও পাইনি। রায় ঘোষণার দিনই কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। ই’চ্ছা করলে রায়ের কপি বন্ধের দিনও দিয়ে দিতে পারে। কিন্ত এখনও হাতে পাইনি। কপি পেলে দ্রু’ত উচ্চ আ’দালতে আবেদন করা হবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জে’লা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘোষণা করেন। মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের পাশাপাশি ছয় আ’সামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আ’দালত।

এ হ’ত্যার ঘ’টনায় পু’লিশ ২৪ জনের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগপত্র দিলেও তার মধ্যে প্রা’প্তব’য়স্ক ১০ আ’সামির বিচার চলে এ আ’দালতে।
ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৪), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২২), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (২০), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২৩), মো. হাসান (২০) ও নি’হতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (২০)।

এছাড়াও মা’মলার অপর চার আ’সামি রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২১), মো. সাগর (২০), মো. মুসা (২৩) ও কামরুল ইসলাম সাইমুনকে (২২) খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর মিন্নিসহ ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত ছয় আ’সামিকে বরগুনা জে’লা কা’রাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কনডেম সেলে রিফাত হ’ত্যার ছয় আ’সামি ছাড়া অন্য কোনো ব’ন্দিই নেই বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা স’রকারি কলেজের সামনে কি’শোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কু’পিয়ে গু’রুতর জ’খম করে রিফাত শরীফকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃ’ত্যুবরণ করেন রিফাত।

পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বা’দী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞাত আরো পাঁচ থেকে ছয়জনের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেন। ঘ’টনার ছয় দিন পর ২ জুলাই ভোররাতে পু’লিশের স’ঙ্গে ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হন এ মা’মলার আলোচিত প্রধান আ’সামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

ত’দন্ত শেষে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জু’ডিশিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে ২৪ জনকে অ’ভিযুক্ত করে প্রা’প্তব’য়স্ক এবং অপ্রা’প্তব’য়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি ত’দন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পু’লিশ। এর মধ্যে ১০ জন প্রা’প্তব’য়স্ক আ’সামি এবং ১৪ জন অপ্রা’প্তব’য়স্ক।

নয়ন বন্ড ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হওয়ায় অ’ভিযোগপত্রে মা’মলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। পরে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বরগুনার জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতে অ’ভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মা’মলাটির বিচার শুরু হয়। ৮ জানুয়ারি থেকে প্রা’প্তব’য়স্ক ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি এ মা’মলার ৭৬ জন সাক্ষীর জবানব’ন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রা’প্তব’য়স্ক আ’সামিদের বি’রুদ্ধের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেন আ’দালত। ১৬ সেপ্টেম্বর উভ’য় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে প্রা’প্তব’য়স্ক ১০ আ’সামির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here