সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বা’মীকে আ’টকে রেখে স্ত্রী’কে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষণের মা’মলায় গ্রে’ফতার ছয়জনের মধ্যে তিন আ’সামিকে সোমবার আ’দালতে নিয়ে আসলে তাদের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সকল শ্রেণির মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন সিলেটের আইনজীবীরা।

তাদেরই একজন নুরুল কবীর মজলু। এসএসসি ২০০৫ অ্যান্ড এইচএসসি ২০০৭ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে তিনি লিখেছেন, ‘ধ’র্ষকদের পক্ষে দাঁড়াননি সিলেটের কোনো আইনজীবী। ধ’ন্যবাদ সিলেটের আইনজীবীদের।

ধ’র্ষণে অ’ভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীদের না দাঁড়ানোর বি’ষয়ে দৈনিক সমকালের অনলাইনে প্রকাশিত একটি সাংবাদে অর্ধশতাধিক মন্তব্য করেছেন পাঠকরা। সেখানে বেশিরভাগই এই ঘ’টনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

স্বপদ দে নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ধ’ন‍্যবাদ সিলেটের আইনজীবীদের। বাংলাদেশের প্রতিটি ধ’র্ষকের পক্ষে কোন আইনজীবী না দাড়ায় তবেই হবে দৃষ্টান্ত।’

ইঞ্জিনিয়ার রাকিব নামে একজন লিখেছেন, ‘অনেক অনেক ধ’ন্যবাদ সিলেট আইনজীবীদের।’ আহমেদ ফরহাদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘প্রাউড টু বি এ সিলেটিয়ান কিছু জানোয়ারের কারণে শাহজালাল (রাঃ) পূর্নভূমি সিলেট কখনই খা’রাপ হতে পারে নাহ। ধ’ন্যবাদ জানাই সিলেট কোর্টের আইনজীবী সমিতিকে’।

এছাড়াও নিজাম উদ্দিন, আব্দুল আলিম শামিম, পিয়াস মনিলাল, মো. ফজর আলী, মো. মঞ্জুর আহমেদ, রাজিব মজুম’দার, সবিরুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসাইনসহ অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী সিলেটের আইনজীবীদের ধ’ন্যবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।

এর আগে সোমবার সকালে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষণের মা’মলার প্রধান আ’সামি সাইফুর রহমান এবং আরেক আ’সামি অর্জুন লস্করকে সিলেট মহানগর হাকিম-২য় আ’দালতে হাজির করা হয়।

পরে বিকেলে একই আ’দালতে হাজির করা হয় আরেক আ’সামি রবিউলকে। তবে এসময় আ’সামিপক্ষে কোনো আইনজীবী মা’মলা পরিচালনার দায়িত্ব নেননি।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মহানগর দ্বিতীয় হাকিম সাইফুর রহমান প্রত্যেকের পাঁচদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেছেন।

সিলেট মহানগর পু’লিশের সহকারী কমিশনার অমূ’ল্য ভূষণ চৌধুরী জানান, তিন আ’সামিকেই আ’দালতে হাজির করে ৭ দিন করে রি’মান্ড চাওয়া হয়েছিলে। আ’দালত তাদের পাঁচদিন করে রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।

আ’দালতে জা’মিন শুনানিতে আ’সামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি বলে জানান এপিপি অ্যাডভোকেট খোকন কুমার দত্ত। তিনি জানান, এটি একটি জঘন্যতম কাজ, যা সমাজের মানুষকে নাড়া দিয়েছে এবং সমাজের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকেই কোনো আইনজীবী আ’সামিপক্ষে দাঁড়াননি এবং তাদের জা’মিনে কেউ আবেদন করেননি।

প্রস’ঙ্গত, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বা’মীর স’ঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষণের শি’কার হন এক তরুণী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বা’মীকে বেঁ’ধে রেখে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধ’র্ষণ করা হয়।

এ ঘ’টনায় তরুণীর স্বা’মীর দা’য়ের করা মা’মলায় আ’সামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজে’লার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ

মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজে’লার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল হাসান (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)। এছাড়া অ’জ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আ’সামি করা হয়।

আলোচিত এ মা’মলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রে’প্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া আ’টক বাকি তিনজন মাহমুদুর রহমান রনি, অ’জ্ঞাত রাজন ও আইনুলকে র‍্যা’ব হেফাজতে রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here