আল্লামা শাহ আহম’দ শফীর মৃ’ত্যুর পর হেফাজতে ইসলামের আমির পদে দুই বাবুনগরীর নাম আসছে ঘুরেফিরে। তারা হলেন- হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাস’চিব জুনায়েদ বাবুনগরী।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশপরবর্তী বিভিন্ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আহম’দ শফীর স’ঙ্গে দ্ব’ন্দ্ব দেখা দিলে নিজেকে সংগঠন থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায়ও আর আসেননি। কিন্তু গত শনিবার রাতে তিনি মজলিসে শূরার বৈঠকে উপস্থিত হন। দুই বাবুনগরীর পাশাপাশি আমির হিসেবে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ফটিকছড়ি উপজে’লার বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক। আর গত শনিবার রাতে মজলিসে শূরার জরুরি বৈঠকে জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান শাইখুল হাদিস ও শিক্ষাস’চিব হন। ফলে অলিখিতভাবে তিনিই হাটহাজারীর ‘বড় মাদ্রাসা’ হিসেবে পরিচিত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলামের মূ’ল কর্তৃত্বে চলে এলেন।

মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতে ইসলামে আওয়ামী লীগ স’রকারবি’রোধী হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের আগে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জুনায়েদ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ স’রকারের ক’ঠোর সমালোচনা করেন।

শাপলা চত্বরের জমায়েতপরবর্তী সময়ে স’রকারের স’ঙ্গে হেফাজতের সমঝোতারও বি’রোধিতা করেন তিনি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে শুকরানা মাহফিলের প্র’তিবাদে মৌখিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

তবে লিখিত না হওয়ায় ওই পদত্যাগের ঘোষণা কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় দুই বাবুনগরীর অনুসারীরা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকেই হেফাজতে ইসলামের ভারপ্রা’প্ত আমির হিসেবে দেখতে চান। ইতোমধ্যে তারা এমন দাবিও তুলেছেন।

হেফাজতে ইসলামের মহাস’চিব জুনায়েদ বাবুনগরী আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমি হেফাজতের মহাস’চিব হিসেবে আছি। নতুন আমির কিংবা পরবর্তী যে কোনো সি’দ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কাউন্সিল ডাকা হবে। কাউন্সিলে যে সি’দ্ধান্ত আসবে, সে সি’দ্ধান্ত অনুযায়ীই হেফাজতের কার্যক্রম চলবে।’

পুত্র আনাস মাদানীর সমালোচিত বিভিন্ন কার্যক্রমে জীবনের শেষ সময়ে বাবুনগরীর অনুসারীদের চা’পে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন আল্লামা শাহ আহম’দ শফী। কিন্তু গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মৃ’ত্যুর পর এখন শফীর পক্ষেই জনমত গড়ে উঠতে শুরু করেছে। অনেকে বলতে শুরু করেছেন, বাবুনগরীর অনুসারীরা মাদ্রাসায় ধ্বং’সাত্মক কার্যক্রম চা’লিয়েছে।

তারা শফীর অক্সিজেনের লাইন খুলে নিয়েছে। এতে তার মৃ’ত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে। বাবুনগরী এ দায় এড়াতে পারেন না। এসব আলোচনার কারণে বাবুনগরীকেও হেফাজতের মূ’ল পদে দেখতে চায় না সংগঠনটির একাংশ।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ছাত্ররা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে, ভা’ঙচুর করেনি। এ আন্দোলনের স’ঙ্গে তিনি যুক্ত নন। আন্দোলন সম্প’র্কে কিছুই জানেন না।

এদিকে হাটহাজারীর বাইরেও উঠেছে হেফাজতে ইসলামের নতুন আমির পদের দাবি। ঢাকার চারিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীকেও হেফাজতে ইসলামের আমির করার দাবি তুলেছে হেফাজতের একটি অংশ। গত শুক্রবার পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে মা’রা যাওয়ার পর শাহ আহম’দ শফীকে চারিয়া মাদ্রাসায় নিয়ে গোসল দেওয়া হয়। সেখানে কাফনের কাপড় পরানো হয়।

টানা ৭০ বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় ৩৫ বছর মুহতামিম বা মহাপরিচালক ছিলেন শাহ আহম’দ শফী। মৃ’ত্যুর আগের দিন এ প্রতিষ্ঠান থেকে তার কর্তৃত্বের পুরোপুরি অবসান হয়। তবে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এখনো শফীর অনুসারীদের নি’য়ন্ত্রণে আছে। জীবদ্দশায় শাহ আহম’দ শফী বেফাকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

মহাস’চিব ছিলেন ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। পরে আহম’দ শফী তাকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব দেন। শফীর অনুপস্থিতিতে এখন তিনিই কার্যত বেফাকের চেয়ারম্যান। দুই বাবুনগরীর কেউ বেফাকের স’ঙ্গে যুক্ত নন।

দেশের কওমি মাদ্রাসার অনেকেই ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামী ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স’ঙ্গে যুক্ত আছেন। তবে হেফাজতে ইসলামের আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহম’দ শফী ও মহাস’চিব জুনায়েদ বাবুনগরী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের স’ঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সরাসরি রাজনৈতিক দলের স’ঙ্গে জ’ড়িত এমন নেতাদের হেফাজতের আমির ও মহাস’চিব হওয়ার রেওয়াজ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here