বিশিষ্ট অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মৃ’ত্যুতে গভীর শো’ক প্রকাশ করে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান বলেছেন, ‘এমন গুণী অভিভাবক আর কোথায় পাবো, তিনি ছিলেন আমার অভিভাবকদের একজন।

মনে হচ্ছে, আমি আমার কোনো এক স্বজনকে হারালাম।’চিত্রনায়ক শাকিব খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাদেক বাচ্চুকে নিয়ে লেখেন, ‘সাদেক বাচ্চু ভাই শুধু আমার সহশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন চলচ্চিত্রে আমার অভিভাবকদের একজন। আমাকে তিনি সব সময় আগলে রেখে ভালোর পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন। মা’নসিক সাপোর্ট দিয়ে সাহস যোগাতেন।

নি’য়মিত আমার খোঁজখবর রাখতেন। সহশিল্পী কিংবা অভিভাবকত্বের বাইরেও বাচ্চু ভাই আমার প্রতি এক অদৃশ্য মায়া দেখাতেন। তিনি আর নেই শোনা মাত্রই আমার ভে’তরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।’

তিনি আরো লেখেন, চলচ্চিত্রে এতগুলো বছর ধরে কাজ করে অনেকের স’ঙ্গে পরিচয় ও সুসম্প’র্ক হলেও সবাই আপন হতে পারেনি। হাতে গোনা কিছু মানুষ হৃদয়ে ঠাঁই পেয়েছে। তাদেরই একজন ছিলেন সাদেক বাচ্চু ভাই।

তার স’ঙ্গে মন খুলে কথা বলতাম। সবকিছু শেয়ার করতাম। তিনি আমার ভালো কাজে যেমন উৎসাহ দিতেন, তেমনি মন্দ শুনলে খুব ক’ষ্ট পেতেন। এমন গুণী অভিভাবক আর কোথায় পাবো!দুঃখ প্রকাশ করে শাকিব লেখেন, গত ২০ বছর ধরে আমরা একসাথে পথ চলছি। সংস্কৃতির সব মাধ্যমে সফল হওয়া এ মানুষটিকে আজ হারালাম।

একজন সহকর্মী হা’রানোর চেয়ে আমার ব্যক্তিগত বেদনা লাগছে। মনে হচ্ছে, আমি আমার কোনো এক স্বজনকে হারালাম। পরম শ্রদ্ধায় সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের বিদে’হী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যেখানেই থাকবেন দোয়া করি শান্তিতে থাকবেন।

প্রস’ঙ্গত, রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ০৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাদেক বাচ্চু। তার ব’য়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

বাবাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন মেয়ে : আইরিন

‘বাবা’র স’ঙ্গে কথাটা শেষ হলো না, আফসোসটা চিরদিন থেকে যাবে : আইরিন
সাদেক বাচ্চু আঙ্কেল এই সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। তখন আমি বাইরে, আমি বললাম আঙ্কেল আমি তো বাইরে। বাসায় গিয়ে ফোন দিচ্ছি। সেদিন বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেছে। আর তার পরের দিনও ফোন দেওয়া হলো না।

পরে আমি যখন ফোন দিলাম, তখন তিনি হাসপাতালে। ফোন কেউ ধরলো না। উনি আমাকে শেষ কী বলতে চেয়েছিল আমি জানি না। এখন আফসোস লাগছে, জানি এই আফসোসটা চিরদিন থেকে যাবে।

সদ্যপ্রয়াত সাদেক বাচ্চু সম্প’র্কে বলতে গিয়ে এভাবেই জাতীয় এক দৈনিককে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলছিলেন চিত্রনায়িকা আইরিন।

আইরিন বলেন, ‘অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে সাদেক বাচ্চু আঙ্কেলের স’ঙ্গে অনেক কথা হতো। গত বছরে নভেম্বরে মুক্তি পায় পদ্মার প্রেম। এটা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া হয়। এই চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বি’ষয় নিয়ে কথা হতো। ক’রোনার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছি। সব অভিনয়ের বি’ষয়ে কথা। অথচ সর্বশেষ যেটা বলতে চেয়েছিলেন সেটাই বলা হলো না, কিংবা আমার শোনার সৌভাগ হলো না।’

সাদেক বাচ্চুর স’ঙ্গে আইরিন প্রথম ভালোবাসা জিন্দাবাদ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। যেখানে তাঁর বাবা ছিলেন সাদেক বাচ্চু। এরপর পদ্মার প্রেমসহ আরও দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন আইরিন। যার প্রত্যেকটি ছবিতেই বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।

আইরিন বলেন, ‘তিনি বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমার প্রত্যেক ছবিতেই। আমাকে একদম মে’য়ের মতো দেখতেন। বাবার মতোই স্নেহপূর্ণ কথা বলতেন। তিনি শুধু অভিনেতাই ঞ্জন, একজন শিক্ষক। আমরা যারা অভিনয় না শিখেই এই জগতে চলে আসি, তাদের তিনি হাতে কলমে অভিনয় শিখিয়ে দিতেন। কোনোভাবেই, কখনই বির’ক্ত হতেন না। এই স্কুলিংটা আমরা আর কারো কাছ থেকে সেভাবে পাবো না।

জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু মা’রা গেছেন। ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না-লিল্লাহ….. রাজিউন।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চ’ক্রবর্তী এই ত’থ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকেই তার হা’র্টবিট বন্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। অবশেষে ১২টা ৫ মিনিটে মৃ’ত্যুবরণ করেন বরেণ্য এই অভিনেতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here