বৈধ পাসপোর্ট ও তিন মাস মেয়াদের ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যাওয়ার পর লক ডাউনের কবলে গত ৪ মাস ধরে ধুবড়ি জে’লে আ’টক কুড়িগ্রামের চিলমারীর উপজে’লার রমনা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ২৫ অধিবাসীকে ফেরত চান স্বজনরা।

এ দাবিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে চিলমারী নদী বন্দরের রমনা ঘাট এলাকার সড়কে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘণ্টাব্যাপী মা’নববন্ধ’ন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসীরা।

আ’টকরা হলেন- সাইফুল ইসলাম, ছবিয়ার রহমান, চাঁন মিয়া, বকুল মিয়া, আবুল ফরিশ, আনোয়ার হোসেন, রাজা মিয়া, মাইদুল ইসলাম, মানিক মিয়া, রেজাউল করিম, সহিদুল ইসলাম, নিরু মিয়া, হযরত আলী, আনারুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, নবিকুল ইসলাম, বিপ্লব মিয়া, এছানুল হক, আবু হানিফ, নুরুল হক, আবু বক্কর সিদ্দিক, আয়নাল হক, শাহ আলম, মো. হাফিজুর, আলম মিয়া ও ইউনুস আলী

রমনা এলাকার অধিবাসী এবং রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান জানান, তিন মাস মেয়াদী ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ব্যাপারীপাড়া গ্রামের অধিবাসীরা লালমনিরহাটের বুড়িমারী এবং ভারতের কুচবিহার জে’লার চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে আসাম রাজ্যের জো’রহাট এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যান।

তিনি বলেন, এরপর ক’রোনা ভাই’রাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সেখানে আ’টকা পড়েন তারা। এ অবস্থায় ভারতের দ্বিতীয় দফা লকডাউনের শেষ দিন ৩ মে কিছু সময়ের জন্য চেকপোস্ট খুলে দেয়া হবে এমন খবরের ভিত্তিতে বাড়ি ফেরার জন্য জো’রহাট থেকে চেংরাবান্ধার উদ্দেশে রওয়ানা দেন তারা। কিন্তু পথিমধ্যে ধুবড়ি জে’লার চা’পোর থানা পু’লিশ তাদের আ’টক করে।

এ সময় তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ফরেনার্স আইনে ফৌজদারি আইনে মা’মলা দিয়ে তাদের ধুবড়ি জে’লহাজতে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি। তাদের মধ্যে ওই জে’লহাজতে বকুল মিয়া নামের একজনের মৃ’ত্যু ঘটেছে। অবশিষ্ট ২৫ জন এখনও সেখানে আছেন।

এ প্রস’ঙ্গে কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আছে। অতি সম্প্রতি ভারতের স্ব’রা’ষ্ট্র স’চিবের সাথে বাংলাদেশের স্ব’রা’ষ্ট্র স’চিবের যে আলোচনা হয়েছে সেখানে আ’টক এই ২৫ জনের বি’ষয়ে কথা হয়েছে। এজন্য বি’ষয়টির বিবেচনা করছেন বলে অনুধাবন করছি।

পাশাপাশি মা’নবাধিকার সংগঠন কোলকাতাস্থ বাংলার মা’নবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ এবং এপারে বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার ভি’কটিম রেসকিউ লিগ্যাল ফোরাম তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ভাগ্যের বি’ষয় হচ্ছে একই বি’ষয় নিয়ে তাদের বি’রুদ্ধে জো’রহাট থানায় আরেকটি মা’মলা হয়েছে। সেই মা’মলায় আবার আ’দালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। অথচ একই বি’ষয় নিয়ে দু’টি মা’মলা হতে পারে না। এতে আইনের সীমাবদ্ধতা আছে। তাই ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দ্রু’ত নিরীহ-নিরপরাধ ২৫ বাংলাদেশিকে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here