রাজধানীর মিরপুর, কক্সবাজার মডেল থানা ও টেকনাফ নিজের থানার পু’লিশকে ব্যবহার করে স্থানীয় সাংবাদিক নি’র্যাতন করার অ’ভিযোগ উঠেছে সমালোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের বি’রুদ্ধে। ফরিদুল মোস্তফা নামে স্থানীয়

ওই সাংবাদিক গত বছরে ‘টেকনাফ থানায় টাকা না পেলে ক্র’সফা’য়ার দিচ্ছে ওসি প্রদীপ’- শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করেন। এরপরই

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান পু’লিশ প্রশাসনের রোষানলে পড়েন। পরে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের পরিকল্পনায় তার বি’রুদ্ধে পু’লিশ বা’দী হয়ে মা’মলা করেন।

এরপর থেকেই পু’লিশি নি’র্যাতনে ভ’য়ে পা’লিয়ে বেড়ান ওই সংবাদকর্মী। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর আবেদন করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

ঢাকা মিরপুরের একটি বাড়িতে আত্মগো’পনে ছিলেন তিনি। তখন ওসি প্রদীপ মিরপুর থানার পু’লিশকে ব্যবহার করে তাকে টেকনাফে নিয়ে আসেন।

এরপর তার ও’পর চলে অকথ্য নি’র্যাতন। তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

পরে তাকে কক্সবাজার মডেল থানার সহযোগিতায় ওই থানা এলাকার বাসভবনে অ’ভিযান চা’লিয়ে ইয়াবা ও অ’স্ত্র উ’দ্ধারের নাটক সাজিয়ে জে’লে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কা’রাগারেই আছেন।

নি’র্যাতিত এ সাংবাদিক দৈনিক কক্সবাজারবাণী ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘জনতারবাণী ডটকমের’ সম্পাদক ও প্রকাশক। প্রদীপের নি’র্যাতনে চোখ হা’রানোর অবস্থা তার। এই ঘ’টনার পর থেকে তাকে কোনো ধরনের চিকিৎসা না দেয়ার

অ’ভিযোগ করেছে পরিবার। যার কারণে চোখের আলো ন’ষ্ট হওয়ার উপক্রম। ঘ’টনার সময় স্থানীয় কোনো সাংবাদিক বি’ষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেননি।

কয়েকজন সাংবাদিকদের স’ঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তখন তারা কেউ ওসি’র বি’রুদ্ধে কথা বলার সাহস পাননি। তার বি’রুদ্ধে সংবাদ করলেই নি’র্যাতন করতো এই ওসি। অ’ভিযোগ রয়েছে, ওসি প্রদীপের ক্ষো’ভের শি’কার

হয়ে ১১ মাস ধরে ৬টি মি’থ্যা মা’মলা মাথায় নিয়ে কারাবাস করছেন ফরিদুল। তিনি এখন কক্সবাজার কা’রাগারে রয়েছেন। জানা গেছে, ওসি ও

তার সহযোগীদের নানা অ’পকর্মের বি’রুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় গত বছরের ২১শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ফরিদুল মোস্তফাকে

ধরে টেকনাফ থানায় নিয়ে তার ও’পর অ’মানুষিক নি’র্যাতন চালান প্রদীপ কুমার। সে সময় তার চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নি’র্যাতন করা হয়। এ ছাড়া তার হাত-পা ভে’ঙে দেয়ার অ’ভিযোগ রয়েছে।

অ’ভিযোগ রয়েছে, ফরিদুলকে নিয়ে কথিত অ’ভিযানে গিয়ে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়ায় বাড়ি থেকে গু’লিসহ ২টি অ’স্ত্র, ৪ হাজার পিস ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি ম’দের বোতল উ’দ্ধার দেখায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে কক্সবাজার মডেল থানা পু’লিশ।

ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার বলেন, গত বছরের ২১শে সেপ্টেম্বর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের শাহ আলীবাগের প্রতীক হাসনাহেনা বাসায় অ’ভিযান চা’লিয়ে কথিত চাঁ’দাবাজির মা’মলায় ফরিদুলকে গ্রে’প্তার করা হয়। মিরপুর মডেল থানা

পু’লিশের সহায়তায় টেকনাফ ও কক্সবাজার থানা পু’লিশ এই অ’ভিযানে অংশ নেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মা’দক সিন্ডিকেট,

কক্সবাজার জে’লা প্রশাসনের ঘুষ, দু’র্নীতিসহ টেকনাফ থানা ও কক্সবাজার থানার ওসি’র বি’রুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এ ঘ’টনার প্র’তিশোধ নিতে ক’ঠোর গো’পনীয়তার মধ্যে গত বছরের ৩০শে জুন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের বি’রুদ্ধে টেকনাফ থানায় একজনকে বা’দী সাজিয়ে চাঁ’দাবাজির মা’মলা দা’য়ের করা হয়।

পু’লিশি নি’র্যাতন ও সাজানো মা’মলা থেকে বাঁচতে ও নিজের পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী, পু’লিশের মহাপরিদর্শক বরাবর গত বছরে ২৮শে জুলাই পৃথকভাবে মানবিক আবেদন করেন ফরিদুল। এসব আবেদন করার পরেও ওসি প্রদীপের কাছ থেকে বাঁচতে পারেননি তিনি। ফরিদুলের স্ত্রী হাসিনা আক্তার জানান, এতো আবেদনের করার পরেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা বা ত’দন্ত না করে উল্টো গ্রে’প্তার করা হয় তাকে। ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার অ’ভিযোগ করে বলেন, তার দুই ঘুমন্ত ননদকে ওসি প্রদীপ কুমারের নেতৃত্বে পু’লিশের একটি দল শা’রীরিক নি’র্যাতন ও শ্লী’লতাহা’নি করে। আ’টকের ভ’য়ভীতি দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয় তাদের। এরপর নাটকীয়ভাবে ২টি অ’স্ত্র, ৪০০০ ইয়াবা ও ১১ বোতল বিদেশি ম’দ উ’দ্ধার দেখায় পু’লিশ। তখন পু’লিশ সদস্যরা ফরিদের বাসায় তালা লাগিয়ে দিয়ে চলে যান। ওই সাজানো অ’ভিযানের ঘ’টনা দেখিয়ে একই দিন কক্সবাজার সদর থানায় অ’স্ত্র, ইয়াবা ও বিদেশি ম’দ উ’দ্ধার দেখিয়ে পু’লিশ বা’দী হয়ে পৃথক ৩টি মা’মলা দা’য়ের করে। সাজানো মা’মলায় গ্রে’প্তারের তিনদিন পর সন্ধ্যা ৭টায় ক’ঠোর গো’পনীয়তায় গু’রুতর জ’খম অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় তাকে আ’দালতে হাজির করা হয়। আ’দালত তাকে জে’লহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। সেই সময় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছেন, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানকে পু’লিশ হেফাজতে লোমহর্ষক নি’পীড়ন করায় সারা শ’রীরে গু’রুতর আ’ঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনো তিনি তার একটি হাত ও একটি পা নাড়াচাড়া করতে পারছেন না। চোখে স্পষ্ট করে কিছু দেখতে পারেন না। বাম পাশের চোখটি বেশি ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী। গ্রে’প্তারের আগে দা’য়ের করা চাঁ’দাবাজির মা’মলাসহ ৬টি মা’মলায় এখনো তিনি জে’লে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর্থিক সং’কটে পড়েছে তার পরিবারটি। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে তিন ছেলেমে’য়ের। তিন স’ন্তান আর বৃ’দ্ধা মা নিয়ে চ’রম অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের। সংসার চালাতে ও মা’মলার খরচের ঘানি টানতে বিক্রি করতে বা’ধ্য হয়েছেন বসতভিটা। এমন ভ’য়াবহ ঘ’টনা নিয়ে গত একবছরে কোনো সংবাদমাধ্যমে সংবাদ পর্যন্ত করতে সাহস হয়নি স্থানীয় সাংবাদিকদের।

এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমে কথা বলায় ওই সা্‌ংবাদিকের বাড়িতে এসে এখনো অপরিচিত বিভিন্ন জন হু’মকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার স্ত্রী হাসিনা আক্তার বলেন, এসব থেকে কবে যে মুক্তি পাবো বুঝতে পারছি না। এখনো বিভিন্ন জন এসে আমাদের হু’মকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। যাদের কাউকেই আমরা চিনি না। তারা বলে যাচ্ছেন, আমরা যেন সাংবাদিকদের স’ঙ্গে কথা না বলি।

মেজর সিনহা হ’ত্যার ঘ’টনায় আরো ৩ জন আ’টক টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, টেকনাফে সে’নাবা’হিনীর অবসর প্রা’প্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হ’ত্যার ঘ’টনায় স’ন্দে’হভাজন তিনজন আ’সামিকে আ’টক করেছে কক্সবাজার র‌্যা’ব-১৫ এর সদস্যরা। আ’টককৃতরা হচ্ছে- টেকনাফের বাহারছড়া মারিশবনিয়ার জালাল আহম’দের পুত্র মো. আয়াছ উদ্দিন, নাজুর পুত্র মো. নুরুল আমিন, নজির আহম’দের পুত্র মো. নাজিমুদ্দিন। মঙ্গলবার ভোররাতে কক্সবাজার র‌্যা’ব-১৫ এর একটি দল তাদেরকে আ’টক করে। একই দিন বিকালে ধৃত আ’সামিদের কক্সবাজার আ’দালতে সোর্পদ করা হয়েছে। আ’টককৃতদের জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রি’মান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে। বি’ষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‌্যা’ব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আব্দুল্লাহ মোহাম্ম’দ শেখ সাদী।

উল্লেখ্য, গত ৩১শে জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লা’শির সময় পু’লিশের গু’লিতে নি’হত হন সে’নাবা’হিনীর অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খান। এ ঘ’টনায় পু’লিশ বা’দী হয়ে টেকনাফ থানায় হ’ত্যা ও মা’দক আইনে এবং রামু থানায় মা’দক আইনে পৃথক ৩টি মা’মলা দা’য়ের করে। এ মা’মলায় নি’হত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের স’ঙ্গে থাকা শাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেব নাথকে গ্রে’প্তার দেখিয়ে কা’রাগারে পাঠায় পু’লিশ।

৫ই আগস্ট নি’হত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বা’দী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেন। ৬ই আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ ৭ আ’সামি কক্সবাজার সিনিয়র জুড়িসিয়াল আ’দালতে আত্মসমর্পণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here