ক’রোনার এই পর্যায়ে বাংলাদেশে স্বাভাবিক নিয়মে স’রকারি অফিস খুলে দেয়াকে ভু’ল সি’দ্ধান্ত বলে মনে করছেন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই ঘোষণায় স’রকারি কর্মচারীদের মধ্যে আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া স’রকারের এই সি’দ্ধান্তে বেস’রকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও উদ্বুদ্ধ হলে বাংলাদেশে ক’রোনা পরিস্থিতির আরো অবনতির আ’শঙ্কা করা হচ্ছে।

বি’ষয়টি নিয়ে কয়েকজন স’রকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী কথা বললেও তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তারা বলেন, স’চিবালয়ে সাধারণত উপ-স’চিব থেকে তার উপরের পদ

মর্যাদার কর্মকর্তাদের বসার জন্য আলাদা কক্ষ আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিনিয়র সহকারি স’চিবরাও এই সুবিধা পান। বাকিরা একই রুমে বসেন বা

ডেস্ক শেয়ার করেন। ফলে সবাই অফিসে গেলে কোনোভাবেই সামাজিক দূরত্ব রেখে কাজ করা সম্ভব হবে না। সেভাবে বসার জায়গা তৈরি করা হয়নি।

আর যে পরিমাণ জায়গা আছে তাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসার ব্যবস্থা করা সম্ভবও নয়। ঢাকার বিভিন্ন স’রকারি অফিস এবং অধিদপ্তরেরও একই অবস্থা। আর ঢাকার বাইরে জে’লা ও উপজে’লা পর্যায়েও সামাজিক দূরত্ব মেনে সবার পক্ষে এক স’ঙ্গে অফিস করা সম্ভব নয়।

একজন কর্মচারী বলেন, ‘‘আমরা তো কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এই ঘোষণায় আমাদের মধ্যে আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই পরিবেশে কাজ করে আমরা তো বাসায় ফিরবো। আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁ’কির মুখে পড়বেন।”

উপ-স’চিব পদ মর্যাদার নীচের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের গাড়িও নেই। তাদের পাবলিক যানবাহনে করেই অফিসে যেতে হবে । এটাও নতুন আরেকটি ঝুঁ’কি তৈরি করবে। আর পুরোদমে অফিস খুলে গেলে বাইরে লোক সমাগমও বেড়ে যাবে।

ঢাকার একটি বেসরকরি আইটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহেদ আহমেদ বলেন,” আমরা এখন পর্যন্ত হোম অফিস করছি। কিন্তু স’রকারের এই সি’দ্ধান্তে যদি বেস’রকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উদ্বুদ্ধ হয়, তাহলে আমরাও বি’পদে পড়ে যাবো।”

স’রকারি প্রতিষ্ঠানে এতদিন রোস্টার করে কাজ হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে যত জনের কাজ করা সম্ভব ততজনই রোস্টার অনুযায়ী অফিসে এসেছেন। বাকিরা বাসায় বসে অফিস করেছেন। পালাক্রমে তারা এভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু রবিবার থেকে এই সুবিধা থাকছে না। সবাইকে ৯টা-৫টা অফিস করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, কর্তমান পরিস্থিতিতে স’রকারি অফিস স্বাভাবিক নিয়মে খুলে দেয়ার সি’দ্ধান্ত নেয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। বাংলাদেশে চলামান ক’রোনার দ্বিতীয় পর্যায় চলছে।

টেস্ট কমানো হলেও আ’ক্রান্তের হার এখনো ২১ ভাগ। পরিস্থিতি ভালো না। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাট এবং ঈদ যাত্রার কারণে ক’রোনা এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে।

আর এখন অফিস স্বাভাবিক নিয়মে খুলে দিলে ক’রোনা আরো বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন,‘‘ ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশে অফিসে বসার ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আর সামাজিক দূরত্ব মেনে বসার মতো স্পেসও নেই। ফলে অফিস হয়ে উঠতে পারে ক’রোনা সং’ক্র’মণের হট স্পট।”

ক’রোনা সংক্রান্ত সি’দ্ধান্তগুলো চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে নেয়ার দাবী উঠছে প্রথম থেকেই। এজন্য জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটিও আছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাদের সাথে পরামর্শ না করেই প্রশাসনিকভাবে এই সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাস’চিব অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘‘শুধু অফিস খুলে দেয়া নয়, কো’ভিড চিকিৎসকদের আবাসন-সুবিধা বাতিল করে ভাতার সি’দ্ধান্ত, ক’রোনা টেস্ট কমানো-এই সব সি’দ্ধান্তই নিচ্ছেন আমলারা। ফলে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই সব সি’দ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের স’ঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে না।”

“কো’ভিড চিকিৎসকদের আইসোলেটেড রাখা একটা বৈজ্ঞানিক বি’ষয়। এখন তাদের আলাদা আবাসনের সুবিধা বাতিল করে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা ভাতা দেয়ার সি’দ্ধান্ত হয়েছে। তারা কি এখন পরিবারে সাথে থেকে ক’রোনা ছড়াবেন?”, প্রশ্ন এই চিকিৎসকের। আর ক’রোনা প্রতিরোধের প্রথম শর্তই হলো যত বেশি পারা যায় টেস্ট বাড়ানো। কিন্তু আমলাদের সি’দ্ধান্তে তা কমানো হচ্ছে। টেকনিক্যাল কমিটির মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে।

একই প্রক্রিয়ায় স’রকারি চাকরিজীবীদের সবার স্বাভাবিক নিয়মে অফিস করার যে আদেশ জারি হয়েছে, তা-ও একটি ভু’ল সি’দ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবে গত ২৪ ঘন্টায় ক’রোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৯টি। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৩টি। এখন শনাক্তের হার ২১.১০ ভাগ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গড়ে ১০-১২ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে এটা ছিল গড়ে ১৫ হাজার।

গত ২৪ ঘণ্টায় ক’রোনায় মা’রা গেছেন ২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মা’রা গেছেন তিন হাজার ৩৩৩ জন। সূত্র : ডয়চে ভেলে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here