আসসালামু আলাইকুম। অনেক বইতে দেখি স’হবাসের সময় স্ত্রীর গো’পনা’ঙ্গের দিকে দেখা জায়েজ নাই, এতে নাকি স্বা’মীর চোখের জ্যোতি কমে যায়। এটা মা’রাক্ত ভু’ল।
আমি স’হবাস সম্প’র্কিত এ ধরণের সকল বিধি নিষে’ধ, সকল মাসয়ালা মাসায়েল আর নিয়মগুলো জানতে চাচ্ছি।একেক জায়গায় একেক ধরণের নিয়মকানুন দেখতেছি।
আমি বুঝতেছি না আমি কোনটার উপর আমল করব? জানালে উপকৃত হব, ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক। –নাম প্রকাশে অ’নিচ্ছুক।

জবাব:এক. স্ত্রী স’হবাসের সময় যেসব বি’ষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত,যা আপনার জীবনের সু’খ ধরে রাখতে পারবে।সংক্ষেপে তা নিম্নে পেশ করা হল-
নিয়ত খালেস করে নেয়া। অর্থাৎ, কাজটির মাধ্যমে নিজেকে হারা’ম পথ থেকে বির’ত রাখার, মু’সলিম উম্মাহর সংখ্যা বৃ’দ্ধি করার এবং সাওয়াব অর্জনের নিয়ত করা।
এ মর্মে আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, স্ত্রী স’হবাসও সদকা। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেউ যদিস্ত্রী স’হবাস এতেও কি সে সাওয়াব পাবে?
তিনি বললেন, তোমরা কি মনে কর যদি সে কামাচার করে হা’রাম পথে তাতে কি তার গু’নাহ হবে না? অনুরূপভাবে যদি সে কা’মাচার করে হালাল পথে তবে সে সাওয়াব পাবে। (মু’সলিম ২২০১)

২- স’হবাসের সময় শৃ’ঙ্গার তথা চু’ম্বন, আ’লি’ঙ্গন, ম’র্দন ইত্যাদি করা।হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর স্ত্রীর স’ঙ্গে আলি’ঙ্গন, চু’ম্বন ইত্যাদি করতেন। (যাদুল মা’আদ ৪/২৫৩)

৩- স’হবাসের শুরু করার সময় দোয়া পড়া– ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি শ’য়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে তুমি যা দান করবে (মি’লনের ফলে যে স’ন্তান দান করবে) তা থেকে শ’য়তানকে দূরে রাখ।’

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এরপরে যদি তাদের দু’জনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষ’তি করতে পারবে না। (বুখারী ৪৭৮৭)

৪- যেকোনো আসনে স্ত্রী স’হবাসের অনুমতি ইসলামে আছে। মুজাহিদ রহ. (তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ই’চ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।)-

এই আয়াতের তফসিরে বলেন, ‘দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (স’ঙ্গ’ম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) স্ত্রীর যো’নিপথে।’ ( দুররে মানছুর ১/২৬৫ তাফসীর তাবারী ২/৩৮৭-৩৮৮ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২)

৫- ম’লদ্বারে স’হবাস হা’রাম:কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর ম’লদ্বারে স’ঙ্গম করে, আল্লাহ্ তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকান না। (ইবন মাজাহ ১৯২৩)

৬-ঋতুবতী অবস্থায় স’হবাস হা’রাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঋ’তুবতী স্ত্রীর সাথে স’হবাস করলো অথবা স্ত্রীর ম’লদ্বারে স’ঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের (আল্লাহ্‌র কিতাবের) বি’রুদ্ধাচরণ করলো। (তিরমিযী ১৩৫ আবূ দাঊদ ৩৯০৪)

৭- একবার স’হবাসের পর পুনরায় স’হবাস করতে চাইলে অজু করে নেয়া মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন” যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে স’হবাস করার পর আবার স’হবাস করতে চায় তখন সে যেন এর মাঝখানে ওযু করে নেয়। কেননা, এটি দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক প্র’শান্তিদায়ক। (মু’সলিম ৩০৮ হাকিম ১/২৫৪)

তবে গোসল করে নেয়া আরো উত্তম। কেননা, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, এরূপ করা অধিকতর পবিত্র, উত্তম ও উৎকৃ’ষ্ট। ( আবু দাউদ ২১৯) দুই. স’হবাসের সময় স্বা’মী-স্ত্রী প’রস্পরের গো’পনা’ঙ্গের দিকে তা’কানো জা’য়েয আছে।

হাদিসে এসেছে, বাহয বিন হাকীম তিনি তাঁর পিতা তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের গো’পনা’ঙ্গ কী গো’পন করব, আর কী বর্জন করব?’ তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে ল’জ্জাস্থানের হে’ফাযত কর।’

সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?’ তিনি বললেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।’ সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?’ তিনি বললেন, ‘মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে ল’জ্জা করা হবে।’ (আবূ দাঊদ ৪০১৯, তিরমিযী ২৭৯৪)

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবন হাজর আসকালানী রহ. বলেন, তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া’ -এর দ্বারা বোঝা যায়, স্বা’মী-স্ত্রী প’রস্পরের গো’পনা’ঙ্গের দিকে তাকানো জায়েয। যুক্তিও বলে, এটা জায়েয হবে। (ফাতহুল বারী ১/৩৮৬) ইবন কুদামা আল মাকদেসী রহ. বলেন, স্বা’মী-স্ত্রী একে অপরের সমস্ত দে’হের দিকে তাকানো, স্পর্শ করা, এমনকি যৌ’না’ঙ্গের ক্ষেত্রেও বৈ’ধ।

কেননা, যৌ’না’ঙ্গে মি’লন হা’লাল। সুতরাং শ’রীরের অন্যান্য অ’ঙ্গের মত তা দেখা ও স্পর্শ করাও জায়েয। (আল মুগনী ৭/৭৭) হাশিয়াতুত দাসুকী (২/২১৫)-তে আছে, স্বা’মী-স্ত্রীর জন্য জায়েয একে অপরের সমস্ত দে’হের দিকে তাকানো, এমনকি যৌ’না’ঙ্গের দিকেও। বলা হয়, স্ত্রীর গো’পনা’ঙ্গের দিকে তাকালে স্বা’মীর চোখের জ্যোতি কমে যায়-একথার কোনো ভিত্তি নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here