ক্যা’সিনো কারবারে জ’ড়িয়ে গত পাঁচ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ নেতা দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়া। আগে থেকেই পারিবারিকভাবে জু’য়া পরিচালনা করলেও ক্যা’সিনোতে তারা জ’ড়ান ২০১৪ সালে। এরপর তারা গত পাঁচ-ছয় বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েন। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে- জমিসহ ২০টি বাড়ি, ১২০টি ফ্ল্যাট, জমি ২৫ কাঠা।

৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাদের স্থিতিশীল টাকার পরিমাণ ১৯ কোটি হলেও লেনদেন করেছেন ২০০ কোটি টাকারও বেশি। এই ক্যা’সিনো ব্রাদারের উত্থান মূ’লত ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সেক্রেটারি জয় গোপালের হাত ধরেই।

জয় গোপালকে সম্প্রতি গ্রে’ফতার করেছে সিআইডি। পু’লিশের অ’পরা’ধ ত’দন্ত বিভাগ বলছে, তাদের বেশিরভাগ সম্পদই দেশে।দুজনের বি’রু’দ্ধে দা’য়ের করা চারটি মানি লন্ডারিং মা’মলা’র ত’দন্ত কাজও শেষ।

এক সপ্তাহের মধ্যে ত’দন্ত প্রতিবেদন আ’দালতে দাখিল করবে সিআইডি। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রা’ইম ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ এসব ত’থ্য জানান। এনু-রুপনের উত্থান সম্প’র্কে তিনি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ওয়ানটেন খেলা হতো।

সেখানে সংক্ষি’প্ত পরিসরে খেলা হতো। এনু-রুপনের উ’ত্থান পারিবারিকভাবে। তাদের বাবা জু’য়া’ড়ি ছিলেন। রাজধানীর সদরঘাটেই ছিল তাদের জু’য়ার আড্ডা। সেখানেই তাদের পেশাদার জু’য়া কার্যক্রমের শুরু।

এরপর ২০১৪ সালে বড় পরিসরে ক্যা’সিনো কার্যক্রম শুরু হয় ইউরোপীয় আদলে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, এনু-রুপনের ব্যাংক হিসাবে জমা ১৯ কোটি ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ টাকা।

আ’দালতের আদেশে এসব টাকা জ’ব্দ রয়েছে। পুরান ঢাকার বংশাল, ইংলিশ রোড, নয়াবাজার, মতিঝিল, শান্তিনগর, গুলশান, ধোলাইখাল, নবাবপুর এলাকায় সাতটি বেস’রকারি ব্যাংকে এসব টাকা জমা রাখেন ক্যা’সিনো কা’রবারি এই দুই ভাই।

ক্যা’সিনো ব্রাদার এনু-রুপন কী পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন জানতে চাইলে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকা ও এর আশপাশে গড়েছেন জমিসহ ২০টি বাড়ি, ১২৮টি ফ্ল্যাট, জমি ২৫ কাঠা।

৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাদের স্থিতিশীল টাকার পরিমাণ ১৯ কোটি হলেও লেনদেন করেছেন ২০০ কোটি টাকারও বেশি। তারা যত সম্পদ গড়েছেন তা সবই ক্যা’সিনো থেকে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যেই। তাদের আরও সম্পদের ত’থ্য খোঁজ করতে আমরা দেশের বিভিন্ন জে’লায় ত’থ্যানুসন্ধান করছি। পু’লিশের অ’পরাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে জ’ড়িত কয়েকজন এজেন্টকে সিআইডি গ্রে’ফতার করে।

আ’দালতে তারা ১৬৪ ধারায় জবানব’ন্দি দিয়েছে। তাদের জবানব’ন্দিতেই মূ’লত উঠে আসে সেক্রেটারি জয় গোপালের নাম। মূ’লত তার তত্ত্বাবধানেই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যা’সিনোর যাত্রা। এসব ত’থ্য পাওয়ার পরই তাকে গ্রে’ফতার করা হয়। জয় গোপাল সম্প’র্কে ডিআইজি ইমতিয়াজ বলেন, ক্যা’সিনোর সাথে সংশ্লিষ্টতার ত’থ্য আসার পর ৯ মাস আগেই আ’ত্মগো’পনে যান জয় গোপাল।

সম্প্রতি আমরা তাকে গ্রে’ফতার করেছি। আমরা আশা করছি জি’জ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ত’থ্য পাবো। তাদের ক্যা’সিনোতে কারা কারা যেতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এনু-রুপনের বিরু’দ্ধে চলমান চারটি মানি লন্ডারিং মা’মলার ত’দন্ত শেষে চার্জশিট দিচ্ছি, যারা জ’ড়িত তাদের নাম আমরা মা’মলার চার্জশিটে রেখেছি। এনু-রুপনের বড় ভাই রশিদ ভূঁইয়া সম্প’র্কে তিনি বলেন, তার সম্প’র্কেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ ত’থ্য পেয়েছি। তাকেও ধরা হবে।

ক্যা’সিনো থেকে প্রতি রাতে এনু-রুপনের কী পরিমাণ আয় হতো জানতে চাইলে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতি রাতে হিউজ অ্যামাউন্ট লেনদেন হতো। বাট ইটস ডিপেন্ডস। ঠিক ফিগা’র দেয়া সম্ভব নয়। বুঝতেই পারছেন যাদের এতো প্রপার্টি থাকতে পারে, তাদের ইনকাম কী পরিমাণ হতে পারে! এতো প্রপার্টি তারা গড়েছেন ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালে, লেনদেনও এই সময়েই সবচেয়ে বেশি।

দেশের বাইরে তারা সম্পদ পা’চার করেছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে যেটা মনে হয়েছে, তাদের ক্যা’সিনোতে অর্জিত অর্থ তারা বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ’লঙ্কারের পেছনে ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, আমরা মূ’লত তাদের বিরু’দ্ধে মানি লন্ডারিেয়ের মা’মলা ত’দন্ত করছি। গেন্ডারিয়া থানার মা’মলায় ১৬ জন, সূত্রাপুরের দুটি মা’মলায় ১৫ ও ১০ জন এবং ওয়ারীর মা’মলায় ১১ জনের বিরু’দ্ধে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে আ’দালতে চার্জশিট দাখিল করবো।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অ’ভিযান চা’লায় র‌্যা’ব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণ উ’দ্ধার করা হয়। এ ঘ’টনায় সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাদের নামে ছয়টি মা’মলা হয়। পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এনু-রুপনের লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অ’ভিযান চা’লায় র‌্যা’ব।

ওই বাড়ি থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা জ’ব্দ করা হয়। ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ এবং এক কেজি স্বর্ণ জ’ব্দ করা হয়। এ ঘ’টনায় দুই ভাইয়ের নামে আরও দুটি মা’মলা হয়। অন্যদিকে দু’র্নীতি দ’মন কমিশনও এনু-রুপনের বিরু’দ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মাম’লা করে। মা’মলায় এনুর বি’রুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এবং রুপনের বিরু’দ্ধে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগ আনা হয়। তবে দুদক এখনও আ’দালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here